মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল এক নজির স্থাপন করলেন। ভিন্ন তিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় গঠিত তিনটি সরকারের শপথ পড়ানোর মধ্য দিয়ে তিনি গড়লেন এক অনন্য রেকর্ড।
সর্বশেষ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার উন্মুক্ত মঞ্চে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। তিনি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিপরিষদ শপথ গ্রহণ করে, যার মধ্যে ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তিন ধাপে তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক অস্থিরতার পর ক্ষমতাচ্যুত হন শেখ হাসিনা। সেই সময় টানা কয়েকদিন কার্যত সরকারবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিন।
পরে ছাত্র-জনতার দাবির প্রেক্ষিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ১৭ সদস্যের সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি।
এরও আগে, ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ২৭ সদস্যের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। ওই মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২ জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
ফলে নিয়োগের প্রায় তিন বছরের মধ্যেই তিন ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায়—একটি নির্বাচিত সরকার, একটি অন্তর্বর্তী সরকার এবং একটি নতুন নির্বাচিত সরকার—মোট তিনটি মন্ত্রিসভাকে শপথ পড়ানোর ঘটনা দেশের ইতিহাসে একমাত্র উদাহরণ হিসেবে যুক্ত হলো তার নামের সঙ্গে।
রাজনৈতিক পটভূমি
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ছাত্রজীবনে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন এবং জেলা জজ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (তদন্ত) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার আগে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ আবদুল হামিদ।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নানা রাজনৈতিক বিতর্ক ও আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তার পদত্যাগের দাবিও ওঠে। তবে সাংবিধানিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে তিনি দায়িত্বে বহাল থাকেন।
সব মিলিয়ে, তিন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সরকারের শপথ পড়ানোর মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী অধ্যায় যুক্ত করলেন।



