নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই কৃষকদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, শস্য, ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে নেওয়া ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ—সুদ-আসলসহ—সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা এবং উপকৃত হবেন আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোনো কৃষক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়ে থাকলে, তাতে যত সুদই যুক্ত হোক না কেন, পুরো অর্থই মওকুফের আওতায় আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের স্বস্তি দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারের মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা ঋণের চাপ থেকে মুক্ত হয়ে নতুন করে উৎপাদনে মনোযোগ দিতে পারবেন। আগে ঋণের কিস্তি পরিশোধে যে অর্থ ব্যয় হতো, তা এখন উন্নত বীজ, আধুনিক সেচব্যবস্থা কিংবা কৃষি উপকরণে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষি খাতের গতিশীলতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ঋণমুক্তির ফলে কৃষকদের ব্যাংকিং রেকর্ড উন্নত হবে এবং ভবিষ্যতে তারা সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে নতুন ঋণ নিতে পারবেন। এতে উচ্চ সুদের অনানুষ্ঠানিক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারকালে গত ২৯ জানুয়ারি রাজশাহীর এক জনসভায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের ঘোষণা দেন তারেক রহমান। পরে ৬ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত নির্বাচনী ইশতেহারেও এ প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে। দায়িত্ব গ্রহণের ১০ দিনের মাথায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।