মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে মার্কিন সেনা লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলার দাবি করেছে ইরান। শনিবার এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। মূলত, ড্রোন এবং শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এই আকস্মিক হামলা চালানো হয়েছে। তাই, পুরো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখন ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। কারণ, এই হামলার ফলে ওই অঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দুবাইয়ে মার্কিন সেনা ও হামলার বিস্তারিত
ইরান দাবি করেছে যে, দুবাইয়ের দুটি স্থানে এই হামলা চালানো হয়েছে। ওই স্থানগুলোতে অন্তত ৫০০ জন মার্কিন সেনা অবস্থান করছিল। সুতরাং, এই অতর্কিত হামলায় ব্যাপক ও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইআরজিসির খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের একজন মুখপাত্র বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। তাঁর নাম ইব্রাহিম যুলফাকারি এবং তিনি এই হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের কথা জানিয়েছেন। ফলে, পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
মার্কিন সেনাদের অবস্থা ও তাসনিম নিউজের রিপোর্ট
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থাও এই হামলার খবর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচার করেছে। তারা জানিয়েছে, ইরানি বাহিনীর শক্তিশালী হামলার কারণে সেখানে চরম ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই, তারা নিজেদের নিরাপদ ঘাঁটি ছেড়ে দ্রুত বাইরে গিয়ে লুকিয়ে ছিল। কারণ, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত অত্যন্ত নিখুঁত এবং ধ্বংসাত্মক ছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও এই হামলার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনে জরুরি আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি ও বিশ্বনেতাদের উদ্বেগ
এই হামলার পর ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অত্যন্ত কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। মুখপাত্র যুলফাকারি সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মার্কিন সামরিক নেতৃত্বকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, এই পুরো অঞ্চলটি খুব দ্রুত আমেরিকান সেনাদের জন্য একটি বিশাল কবরস্থানে পরিণত হবে। পরিশেষে, তাদের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া বাঁচার আর কোনো উপায় থাকবে না। কারণ, ইরান তাদের যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তাই, আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও কতটা ভয়ানক হবে, তা নিয়ে সবাই চিন্তিত।
এই ঘটনার পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে উভয় দেশকে চরম সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কারণ, যুদ্ধ কারও জন্যই কোনো সুফল বয়ে আনবে না।



