সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রায় চূড়ান্ত করেছে পে-কমিশন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হবে। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। কমিশনের এই সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা।
বর্তমানে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কর্মরত আছেন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। সর্বশেষ ২০১৫ সালে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। দীর্ঘ সময় পর গত বছরের জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-স্কেল প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি কমিশন গঠন করে। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা প্রতিবেদন গ্রহণের জন্য ২১ জানুয়ারি সময় নির্ধারণ করেছেন।
এবারের প্রতিবেদনে বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের দর্শনগত পরিবর্তনের কোনো সুপারিশ রাখা হয়নি। গ্রেডের সংখ্যাও অপরিবর্তিত থাকছে। তবে দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন সূত্র।
প্রস্তাবিত পে-স্কেলে সবচেয়ে বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে ২০তম গ্রেডে। এ গ্রেডে মূল বেতন ১৪৪ শতাংশ বাড়িয়ে বর্তমান ৮ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা যুক্ত হলে এ গ্রেডের কর্মচারীদের মোট বেতন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪২ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি মূল বেতন পান সচিবরা, যা ৭৮ হাজার টাকা। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী এই বেতন ১০৫ শতাংশ বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। ভাতা ও আনুতোষিকসহ একজন সচিবের মোট প্রাপ্তি মাসে তিন লাখ টাকা ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। তবে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে এই খাতে ব্যয় বাড়তে পারে আরও প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। যদিও সংশোধিত বাজেটে অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এ খাতে অতিরিক্ত প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়িয়েছে।
এদিকে এত বড় অঙ্কের ব্যয় এবং এর ফলে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, এ ধরনের ব্যয়ের জন্য জনগণ প্রস্তুত কিনা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা কতটুকু—তা গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
কমিশন প্রতিবেদন চূড়ান্ত করলেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো দ্বিধায় রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সব দিক বিবেচনা করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



