মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস বাঙালির জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবের একটি দিন। আসন্ন এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে একটি বিশেষ স্মারক ডাকটিকেট উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন। ঢাকার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। মূলত দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক স্মৃতি ও শহীদদের আত্মত্যাগ ধরে রাখতেই সরকার এবং বাংলাদেশ ডাক বিভাগের উদ্যোগে প্রতি বছর এমন প্রশংসনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
স্বাধীনতা দিবসে স্মারক ডাকটিকেট উদ্বোধন
আজকের এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক প্রকাশ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ১০ টাকা মূল্যমানের একটি চমৎকার স্মারক ডাকটিকেট এবং ১০ টাকা মূল্যমানের একটি বিশেষ উদ্বোধনী খাম। তাছাড়া এই বিশেষ আয়োজনে ০৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ড ও একটি বিশেষ সিলমোহরও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। কারণ এমন ঐতিহাসিক দিনে এই ধরনের স্মারক প্রকাশ করা স্বাধীন রাষ্ট্রের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। অন্যদিকে, ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই মহতি আয়োজনে উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণের উদ্যোগ
নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এই উদ্যোগগুলো দারুণভাবে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কারণ একটি স্মারক ডাকটিকেট শুধু এক টুকরো রঙিন কাগজ নয়, বরং এটি একটি জাতির দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী। পাশাপাশি সারা বিশ্বের ডাকটিকেট সংগ্রাহকদের (ফিলাটেলিস্ট) কাছেও এর ব্যাপক কদর ও চাহিদা রয়েছে। সুতরাং এই ধরনের স্মারক প্রকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস খুব সহজেই ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। তাই বর্তমান সরকার প্রতি বছর জাতীয় দিবসগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই কাজগুলো নিয়মিত করে থাকে।
সাধারণ মানুষের জন্য ডাকটিকেটের প্রাপ্যতা
প্রকাশিত এই নতুন ডাকটিকেট, উদ্বোধনী খাম এবং ডাটাকার্ড খুব শিগগিরই সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা জিপিও-এর ফিলাটেলিক ব্যুরো থেকে এগুলো সরাসরি সংগ্রহ করা যাবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য সব প্রধান ডাকঘরগুলোতেও এই স্মারকগুলো বিক্রির জন্য পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত এমন ঐতিহাসিক স্মারকগুলো নিজেদের ব্যক্তিগত সংগ্রহে সযত্নে রাখা। এতে করে আমাদের সমৃদ্ধ জাতীয় ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও অনেক বেশি সুরক্ষিত হবে।



