দেশের প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে নারী ও শিশুরা—যেন সামান্য অসুস্থতায় হাসপাতালের বারান্দায় ভিড় না করে নিজ বাড়িতেই প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই বিএনপি ক্ষমতায় এলে সারা দেশে গ্রামে গ্রামে ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগ দেওয়া হবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার ‘পল্লি চিকিৎসক’ মডেলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এসব হেলথ কেয়ারারকে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তারা নিয়মিতভাবে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। ছোটখাটো রোগের জন্য আর দূরবর্তী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হবে না; ঘরে বসেই বিনামূল্যে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাবে।
জনসভায় তারেক রহমান শুধু স্বাস্থ্য খাত নয়, কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার রাজনীতি সমালোচনা বা কাদা ছোড়াছুড়ির জন্য নয়; বরং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।
কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে তিনি সারা দেশে ‘খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি ও পানিপথ পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘কৃষি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি সার, বীজ ও ঋণ সুবিধা পাবেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে চায়, যেখানে মেধা ও যোগ্যতাই হবে কর্মসংস্থানের একমাত্র মাপকাঠি। প্রবাসীদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি তরুণদের কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ করে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।
জনসমুদ্রের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা যেন নির্ভয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেন।



