আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য নাম। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক এবং সাধারণ মানুষের আস্থার ঠিকানা।

আমার দর্শন বলে—সকল সুযোগ–সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত সুখ–স্বাচ্ছন্দ্যকে তুচ্ছ করে দেশের মায়ায় কষ্টকে সঙ্গী করে যিনি জীবন কাটিয়েছেন, তিনি নিঃসন্দেহে একজন দেশদরদী রাজনৈতিক নেতৃত্ব। বারবার অসুস্থতা, কারাবরণ ও পারিবারিক শোকের মধ্যেও দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি তার টান কখনো বিচ্ছিন্ন হয়নি। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এমন নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা স্বাভাবিক।

বেগম খালেদা জিয়ার ডাকনাম খালেদা খানম পুতুল। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ সালে, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গ প্রদেশের জলপাইগুড়িতে। পরবর্তীতে তাঁর পরিবার দিনাজপুরের মুদিপাড়ায় বসবাস শুরু করে। তাঁর আদি পৈতৃক নিবাস বর্তমান বাংলাদেশের ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ি।

১৯৬০ সালের আগস্ট মাসে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল অল্প। দাম্পত্য জীবনে তাঁদের দুই পুত্র সন্তান—

বড় ছেলে তারেক রহমান (জন্ম: ২০ নভেম্বর ১৯৬৫) এবং

ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো (জন্ম: ১২ আগস্ট ১৯৬৯)।

এরপর আসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ—যা ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে গভীর ছাপ ফেলে। স্বাধীনতা–উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংগ্রামের পথেই এগোতে থাকে তাঁর জীবন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান শহীদ হন। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে স্বামী হারিয়ে বেগম খালেদা জিয়া একা হয়ে পরেন ২ সন্তান নিয়ে। কিন্তু শোক তাঁকে ভেঙে দেয়নি; বরং স্বামীর দেশ গড়ার স্বপ্ন এবং দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে তিনি রাজনীতির কঠিন ময়দানে অবতীর্ণ হন। ধীরে ধীরে তিনি জনগণের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন—পরিচিতি পান “দেশনেত্রী” হিসেবে।

তিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারী রাজনৈতিক নেতা। একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েও আপোষহীন অবস্থান ও রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন।

২০০৮ সালে বড় ছেলে তারেক রহমানের নিরাপত্তাজনিত ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণে তিনি দেশত্যাগে বাধ্য হন—যা একজন মায়ের জন্য ছিল গভীর কষ্টের অধ্যায়। এরপর ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর আকস্মিক মৃত্যু বেগম খালেদা জিয়াকে ভেঙে দেয় গভীর শোকে। তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৭০ বছর।

এরই মাঝে রাজনৈতিক মামলায় দীর্ঘ সময় কারাবরণ, গুরুতর অসুস্থতা এবং চিকিৎসাজনিত সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করতে হয়েছে তাঁকে। তবুও দেশের রাজনীতি ও জনগণের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা প্রশ্নাতীত।

আজও বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে এক শক্ত প্রতীক—যিনি ব্যক্তিগত জীবনে সীমাহীন ত্যাগ স্বীকার করেও রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে সরে যাননি।

আজ ৩০ শে ডিসেম্বর,মঙ্গলবার, ভোর ৬ টায় মহাকালের অনন্ত যাত্রায় প্রস্থান করেন।এসময় তার বয়স ছিলো ৮০ বছর।মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করেন,দেশ ও জাতির জন্য তাঁর অবদানকে কবুল করেন—আমিন।

লেখকঃ মো শরিফুল ইসলাম