বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশে নতুন এক জালিম গোষ্ঠীর আবির্ভাব হয়েছে, যারা নারী সমাজের মর্যাদা দিতে জানে না। তিনি অভিযোগ করেন, ওই গোষ্ঠীর একজন নেতা দেশের মা-বোনদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে পরে দাবি করেছেন—তার বক্তব্য হ্যাক করা হয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা যাচাই করে দেখেছেন, সেটি হ্যাক নয়।

বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন কর্মজীবী নারী। বদরের যুদ্ধে হযরত আয়েশা (রা.) রণাঙ্গনে অস্ত্র সরবরাহ করেছেন। অথচ আজ একদল মানুষ নারীকে ঘরবন্দি রাখার কথা বলছে। নারীকে ঘরে আটকে রেখে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

তারেক রহমান বলেন, “কুমিল্লায় তাদের এক নেতা বলেছেন—‘১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, ১২ তারিখের পর জনগণ আপনাদের পা ধরবে।’ যারা জনগণকে এমন ভাষায় দেখে, তারা কীভাবে দেশ চালাবে?”

তিনি বলেন, “আমি আমার দলের নেতাকর্মীদের বলছি—১৩ তারিখ থেকে আপনারা জনগণের পা ধরবেন। কারণ জনগণই সব ক্ষমতার উৎস।”

স্বৈরাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগে যেভাবে মানুষকে অপমান করা হতো, সেই ধারার এখনো অবসান হয়নি। দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, জনগণ যাদের ভিন্ন নামে চেনে, সেই গুপ্ত সংগঠনটি নতুন জালিম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “যে দলের নেতা দেশের মা-বোনদের অপমান করে, কষ্ট দেয়—তারা কীভাবে বাংলাদেশ পরিচালনা করবে?”

উন্নয়ন ও প্রতিশ্রুতি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে বরিশাল বিভাগে একমাত্র এই জনসভায় তারেক রহমান দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি আসনের বিএনপি ও জোট প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

দীর্ঘ দুই দশক পর বরিশাল সফরে এসে তিনি বলেন, “জুলাই বিপ্লবে শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা দেশ গড়তে চাই। দীর্ঘ ১৬ বছর জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। নিশিরাতের ভোট ও ডামি ভোটের কারিগররা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।”

তিনি বলেন, “এবার দেশ চলবে জনগণের ভোটে ও মতামতে।”

নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “গার্মেন্টস শিল্পে বিশ্বে আমাদের যে সাফল্য, তার মূল কারিগর আমাদের মা-বোনেরা। তাদের সম্মান ও যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”

বিএনপি ক্ষমতায় এলে ফ্যামিলি কার্ড চালু, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, কৃষক কার্ড চালু, হিমাগার নির্মাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ও যুবকদের প্রশিক্ষণ, ভোলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন, নদীভাঙন রোধ ও স্বাস্থ্যসেবায় হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।