দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই অনেক কেন্দ্রের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমর্থনে ভোটার ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার পরিবেশ বিরাজ করছে।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আয়োজিত এই নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। প্রায় পৌনে ১৩ কোটি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্ধারণে অংশ নিচ্ছেন। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

এবারের ভোট কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতেও ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন নাগরিকরা। অনেকের মতে, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। তবে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখের বেশি, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখের বেশি এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন।

ভোটের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, ৯ লাখের বেশি নিরাপত্তা সদস্য এবং প্রায় ৮ লাখ নির্বাচনি কর্মকর্তা এই বিশাল আয়োজন পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ৩৫ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষক এবং সাড়ে ৩০০ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ৩১ জন, যার মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। দলীয় প্রার্থীর সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে বিএনপি, তারা ২৯১টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী লড়ছে ২২৭টি আসনে।