ভূমিসেবা চালু

ভূমিসেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করতে সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সহজে ও স্বচ্ছভাবে ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে সেবাগ্রহীতাদের দুর্নীতি বা অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমি ভবনে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী একযোগে দেশের সকল বিভাগ, জেলা, উপজেলা, রাজস্ব সার্কেল এবং জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত ভূমিসেবা মেলার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের টেকসই উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে ভূমির পরিকল্পিত ও যথাযথ ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূমিসেবা প্রদান করা হলে নাগরিকরা ঘরে বসেই বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন এবং দুর্নীতি ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

তিন দিনব্যাপী এ ভূমিসেবা মেলা আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে) পর্যন্ত চলবে।

এর আগে সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু জানান, ভূমিসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নাগরিকবান্ধব করতে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণা ছিল, বর্তমান সরকার তা পরিবর্তনে কাজ করছে।

এ বছরের ভূমিসেবা মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা: সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ”

মেলার প্রধান উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে— অটোমেটেড ভূমিসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঘরে বসে ভূমিসেবা গ্রহণের সুযোগ সম্পর্কে নাগরিকদের অবহিত করা, সরাসরি ভূমিসেবা প্রদান, ডিজিটাল সেবা ব্যবহারে উৎসাহ সৃষ্টি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে উদ্বুদ্ধকরণ, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তাৎক্ষণিক সমাধান নিশ্চিত করা এবং সর্বোপরি ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

জাতীয় পর্যায়ে ঢাকার ভূমি ভবনসহ দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা ও রাজস্ব সার্কেলে একযোগে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।