আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ডেল্টা ফোর্স যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সবচেয়ে অভিজাত সন্ত্রাসবিরোধী ও সরাসরি আঘাত হানার (ডাইরেক্ট অ্যাকশন) ইউনিট হিসেবে পরিচিত। এই ইউনিটের আনুষ্ঠানিক নাম ফার্স্ট স্পেশাল ফোর্সেস অপারেশনাল ডিটাচমেন্ট–ডেল্টা

উচ্চঝুঁকির অভিযানে বিশেষ দক্ষ এই বাহিনী সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু আটক বা হত্যার মতো সংবেদনশীল মিশনে নিয়োজিত থাকে। যেসব অভিযানে দ্রুততা, সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও নিখুঁত পরিকল্পনা অপরিহার্য—সেগুলোতেই ডেল্টা ফোর্সকে মোতায়েন করা হয়।

ইউনিটটি যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশনস কমান্ডের অধীনে পরিচালিত হয় এবং রাজনৈতিক বা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের সময়ই সাধারণত তাদের ব্যবহার করা হয়। সামরিকবিষয়ক ওয়েবসাইট মিলিটারি ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ডেল্টা ফোর্সের ঘাঁটি নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে অবস্থিত, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান বাহিনীর প্রধান প্রশিক্ষণকেন্দ্র।

অত্যন্ত গোপনীয় এই ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ২০০৩ সালে ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনকে আটক করার অভিযান উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে আল-কায়েদার শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত একাধিক সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ডেল্টা ফোর্স সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।

ডেল্টা ফোর্সের নেতৃত্বে থাকেন একজন জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা। তবে ইউনিটটির প্রধানের পরিচয় ও সদস্যসংখ্যা—দুটিই শ্রেণিবদ্ধ তথ্য হিসেবে গোপন রাখা হয়। ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত অভিযানে ঠিক কতজন সদস্য অংশ নিয়েছিলেন, সে বিষয়েও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

কর্মকর্তাদের বরাতে সংবাদমাধ্যম জানায়, অভিযানের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ১৬০তম স্পেশাল অপারেশনস এভিয়েশন রেজিমেন্টের হেলিকপ্টার—যেগুলো ‘নাইট স্টকার্স’ নামে পরিচিত—বিশেষ বাহিনীকে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছে দেয়।

স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ সময় শহরের আকাশে একাধিক উড়োজাহাজ ও হেলিকপ্টার উড়তে দেখা যায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এমন গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে, যা ডেল্টা ফোর্সকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর অবস্থান শনাক্ত করতে সহায়তা করে। তবে কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, অবস্থান শনাক্তে সিআইএ ভূমিকা রাখলেও, বাস্তবে আটক করার কাজটি সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সামরিক অভিযান বাহিনী।

শনিবার ভোরে ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস উইকঅ্যান্ড’ অনুষ্ঠানে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তারা ‘অবিশ্বাস্য কাজ’ করেছেন।

ট্রাম্পের ভাষ্য, “তারা এমনভাবে মহড়া ও অনুশীলন করেছে, যা আগে কেউ দেখেনি। প্রকৃত সামরিক বিশেষজ্ঞরা আমাকে বলেছেন—পৃথিবীর আর কোনো দেশ এমন কৌশলগত অভিযান চালাতে পারত না।”

তিনি জানান, পুরো অভিযানটি তিনি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, “অবতরণের কৌশল, বিপুলসংখ্যক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার—ভিন্ন ভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজ—সবকিছু ছিল। সম্ভাব্য প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।”

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মাদুরো একটি সুরক্ষিত আবাসনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। তবে নিরাপদ এলাকায় পৌঁছানোর আগেই তাকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হলেও কেউ নিহত হননি এবং কোনো উড়োজাহাজও হারায়নি বলে জানান তিনি।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আইও জিমাতে নেওয়া হয়। পরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হয় এবং আগামী সোমবারের মধ্যেই নিউইয়র্ক সিটির একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করা হতে পারে।