রাজধানীর কাঁচাবাজারে চেনা পরিবেশ থাকলেও রমজান শুরু হতেই বদলে গেছে দামের হিসাব। ইফতার ও সাহরিতে ব্যবহৃত নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। রোজার দ্বিতীয় দিনেই বাজারে দেখা গেছে বাড়তি চাপ, বিশেষ করে লেবু, বেগুন, শসা, কাঁচামরিচ, পেঁয়াজ, খেজুর, মুরগি, মাংস ও বিভিন্ন ফলের দামে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি, রায়ের বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ও জয়দেবপুর, গাজীপুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। শীতকালীন সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

লেবু ও বেগুনে দামের ঝাঁজ এক সপ্তাহ আগেও প্রতি হালি লেবু ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা আকারভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় পৌঁছেছে। একইভাবে বেগুনের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুনের কেজি ১৬০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ইফতারের অন্যতম উপকরণ কাঁচামরিচের দামও ক্রেতাদের চাপে ফেলেছে। কোথাও কোথাও প্রতি কেজি ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা-পাকা মিশ্র মরিচ ১৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। শসার কেজি ১২০ টাকা এবং খিরা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতাদের বক্তব্য মহাখালী বাজারের এক বিক্রেতা জানান, কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমলেও লেবুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মূল্য ঊর্ধ্বমুখী। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, কয়েকদিন আগেও লেবু ও বেগুন কম দামে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে সরবরাহ কম এবং চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেড়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উত্তরা কাঁচাবাজারের এক বিক্রেতার ভাষ্য, রমজানে সালাদজাতীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ে। পাইকারি পর্যায়ে মূল্য বেশি হওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।

অন্যান্য পণ্যের দাম বাজারে ফুলকপি প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৪০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৮০ টাকা ও ধুন্দুল ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পেঁপে কেজি ৪০-৫০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা, শিম ৭০-৮০ টাকা, শালগম ৪০-৫০ টাকা এবং কচুরমুখী ৮০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে।
লাউ ৫০-৬০ টাকা, আলু ২০-২৫ টাকা কেজি এবং ধনেপাতা ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শাকের মধ্যে লালশাক ১০ টাকা, পুঁইশাক ২০-৩০ টাকা এবং ডাঁটাশাক, কলমি ও পালংশাক ১০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের উদ্বেগ বাজার করতে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, ইফতারের প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চাপে পড়েছে। তারা মনে করছেন, এভাবে মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে সংসারের খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের দাবি, রমজানকে কেন্দ্র করে কিছু পণ্যের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে তারা আশা করছেন, কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমে আসবে।

সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশা, বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় জোরদার উদ্যোগ নেওয়া হবে।