সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং

কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপে নির্মিত সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং মেগা প্রকল্পটি এখন দেশের কোনো কাজেই আসছে না। মূলত, ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বিগত সরকারের আমলে এই বিশাল প্রকল্পটি নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু, এটি এখন নতুন সরকারের জন্য রীতিমতো গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, সাগরে অবস্থানকারী বড় ট্যাংকার থেকে সরাসরি তেল খালাস করার এই ভাসমান মুরিং এখন অনেক বড় বোঝা। তাই, এর ভবিষ্যৎ নিয়ে সবাই এখন বেশ চিন্তিত।

রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতা ও সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং

প্রয়োজনীয় স্টোরেজ না থাকা এবং রক্ষণাবেক্ষণকারী নিয়োগ নিয়ে এই মেগা প্রকল্পে বিশাল জটিলতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার ঋণের বড় বোঝাও এখন নতুন সরকারের কাঁধে চেপে বসেছে। বর্তমানে এর পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণকারী নিয়োগের নতুন দরপত্র নিয়েও চরম বিতর্ক চলছে। অভিযোগ উঠেছে যে, একটি বিশেষ পক্ষ পতিত সরকারের পছন্দের লোকদের এই দায়িত্ব দিতে চাইছে। ফলে, এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে অনেক বড় প্রশ্ন উঠেছে।

মেগা প্রকল্প নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের ক্ষোভ

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা এই প্রকল্পটি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, বিগত সরকার মূলত ‘মেগা প্রকল্প’ রোগে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত ছিল। তাই, দেশজুড়ে বড় বড় যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তার অধিকাংশই জনস্বার্থে নেওয়া হয়নি। বরং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের লুণ্ঠননীতির অংশ হিসেবেই এই বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। সুতরাং, শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞরা এটি নিয়ে বারবার নিজেদের আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন।

মাথাভারী সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং ও বিপিসির পরিকল্পনা

বিপিসি সূত্র জানিয়েছে যে, আমদানিকৃত ক্রুড অয়েল এবং ডিজেল সহজে খালাস করতে এটি নির্মাণ করা হয়। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও চীন সরকার জিটুজি ভিত্তিতে যৌথভাবে বাস্তবায়ন করে। মূলত, এক লাখ টন ধারণ ক্ষমতার ট্যাংকার খালাস করতে আগে প্রায় ১১ দিন সময় লাগত। তাই, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সরকারের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু, দ্বিতীয় ইউনিট না থাকায় এটি আপাতত অলস পড়ে থাকবে।

রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকাদার নিয়োগে বড় ধরনের জটিলতা

গত আগস্টে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনো এটি পুরোপুরি চালু করা যায়নি। কারণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো যোগ্য ঠিকাদার এখনো নেই। প্রথম দফার দরপত্র বাতিল হওয়ার পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফা দরপত্রের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু, এটিকে প্রতারণামূলক হিসেবে দেখছেন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। কারণ, অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এতে অংশ নিতে পারেনি।

বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ ও লুণ্ঠনকারীদের বিচার

এই প্রকল্পের বিষয়ে বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিস্তারিত কথা বলেছেন। তিনি জানান, সরকার এই প্রকল্পের বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করবে। কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, অধ্যাপক এম শামসুল আলম এই খাতকে লুণ্ঠনকারীদের কবল থেকে দ্রুত বের করার তাগিদ দিয়েছেন। পরিশেষে, বর্তমান সরকার সব দুর্নীতি খুঁজে বের করে সঠিক বিচার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।