আন্তর্জাতিক সংবাদে আজ একটি অত্যন্ত দুঃখজনক খবর সামনে এসেছে। মূলত, একটি শক্তিশালী আফগানিস্তানে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার রাতে রাজধানী কাবুলে এই ভয়াবহ কম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৯। এর ফলে একটি বাড়ি পুরোপুরি ধসে গেছে। এতে কমপক্ষে ৮ জন নিহত এবং এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছেন। তাই, ওই অঞ্চলে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আফগানিস্তানে ভূমিকম্প ও জার্মান ভূবিজ্ঞান কেন্দ্রের তথ্য
জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (জিএফজেড) এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে। তারা এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও মাত্রা নিশ্চিত করেছে। মূলত, স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৩ মিনিটে এই শক্তিশালী কম্পনটি আঘাত হানে। আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চলে এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল। এই কেন্দ্রস্থলটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭৭ কিলোমিটার বা ১১০ মাইল গভীরে অবস্থিত। ফলে, এত গভীর থেকে কম্পন হওয়ায় এর প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
ভারত ও পাকিস্তানে ব্যাপক কম্পন এবং আতঙ্ক
এই ভয়াবহ কম্পনের প্রভাব শুধু আফগানিস্তানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে। মূলত, প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এটি অত্যন্ত তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই কম্পন খুব ভালোভাবে টের পাওয়া যায়। একইভাবে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতেও এই ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ফলে, ওই দেশগুলোর সাধারণ মানুষের মাঝেও হঠাৎ করে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের বিস্তারিত প্রতিবেদন
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এই ঘটনার একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ (পিএমডি) প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৬.১ বলে পরিমাপ করেছিল। মূলত, পাকিস্তানের অনেকগুলো বিশাল এলাকায় এই কম্পন আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবের কিছু এলাকা এবং গিলগিট-বাল্টিস্তানে কম্পন অনুভূত হয়। এছাড়া, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া এবং আজাদ জম্মু-কাশ্মিরেও এর প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে, ভারত-শাসিত কাশ্মীরেও এই ভূমিকম্পের কারণে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।
হিন্দুকুশ পর্বতমালা এবং আফগানিস্তানে ভূমিকম্প এর প্রবণতা
ভৌগোলিকভাবে আফগানিস্তান একটি অত্যন্ত দুর্গম পর্বতমালা বেষ্টিত দেশ। বিশেষ করে এই দেশের হিন্দুকুশ অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। মূলত, এই অঞ্চলে ইউরেশিয়ান ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট একে অপরের সাথে মিলিত হয়েছে। তাই, এই সংঘর্ষের কারণে দেশটিতে প্রায় প্রতি বছরই বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে। ফলে, প্রতি বছর প্রায় ৫৬০ জন নিরীহ মানুষ এই ভূমিকম্পে প্রাণ হারান। সুতরাং, এখানকার সাধারণ মানুষ সব সময় এক ধরনের প্রাকৃতিক ঝুঁকির মধ্যেই বসবাস করেন।
গত কয়েক বছরের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইতিহাস
আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাস ঘাটলে অনেক করুণ চিত্র দেখা যায়। গত বছরের নভেম্বরে দেশটিতে ৬.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ওই ঘটনায় অন্তত ২৭ জন নিহত হন এবং শত শত বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। এর আগে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট পূর্বাঞ্চলে আরও একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল। ৬.০ মাত্রার ওই ভূকম্পনে ২ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। পরিশেষে, সেটিকেই সাম্প্রতিক আফগান ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হিসেবে ধরা হয়।



