বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি ওয়াই-ফাই

দেশের সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। বর্তমানে কমিশন থেকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রেরণের বিষয়টি একদম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মূলত বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই মহতি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার ছাড়া উচ্চশিক্ষা ও মানসম্মত গবেষণা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়। তাই শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই ইউজিসি এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি ওয়াই-ফাই ও ডিজিটাল সুবিধা

বর্তমান সময়ে ডিজিটাল সুবিধা ছাড়া আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব। তাই শিক্ষা খাতে ডিজিটাল সুবিধা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণায় সার্বিক সহায়তা প্রদান করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। সুতরাং ইউজিসির এই সময়োপযোগী পদক্ষেপটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন।

ইউজিসির বিশেষ সভা ও উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

বুধবার ইউজিসি কার্যালয়ে এই বিষয়ে একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ। এই নীতিনির্ধারণী সভায় ইউজিসির একাধিক সদস্য এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং ইউজিসি সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম। পাশাপাশি আইসিটি বিভাগের পরিচালক, হিট প্রকল্পের পরিচালক এবং বিডিরেন-এর সিইওসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত থেকে তাদের মূল্যবান মতামত প্রদান করেন।

আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে বাস্তবায়ন

এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় বেশ কিছু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়ায় এই সেবা চালু করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হবে। এই পুরো উদ্যোগটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করবে বাংলাদেশ রিসার্চ এন্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন)। অন্যদিকে, পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসহ অন্যান্য সব শিক্ষা ও গবেষণা অবকাঠামোতেও এই ইন্টারনেট সুবিধা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হবে। পরিশেষে, ইউজিসি চেয়ারম্যান দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একটি শক্তিশালী ও শিক্ষার্থীবান্ধব ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের মতো আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সাথে খুব সহজেই যুক্ত হতে পারবে।