দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা ঘোষণা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) তার দ্বিতীয় পডকাস্টে “করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” স্লোগানকে সামনে রেখে প্রাথমিক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একটি শক্তিশালী জাতি গঠনে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করা অপরিহার্য। তিনি শিক্ষকদের মানোন্নয়ন এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
পডকাস্টের দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান প্রস্তাবনার মধ্যে ছিল—ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি, এবং কারিগরি শিক্ষা।
শুরুতেই বিএনপি চেয়ারম্যান বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ নামে যুগান্তকারী পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এর মূল লক্ষ্য হলো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে তোলা এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল যুগে উন্নীত করা।
তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগে দেশের প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ প্রাথমিক শিক্ষকের হাতে ট্যাব বা কম্পিউটার পৌঁছে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা আধুনিক প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন এবং দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারবেন।
তারেক রহমান মনে করেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজড করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “শিক্ষকদের হাতে আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে চাই। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা দূরশিক্ষণ, অনলাইন প্রশিক্ষণ এবং ক্লাসরুম পাঠদান আরও কার্যকরভাবে করতে পারবেন।”
তাঁর ভিশনে তরুণ প্রজন্মকে বিশ্ববাজারের জন্য দক্ষ করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি সরকারিভাবে ম্যান্ডারিন, জাপানিজ, জার্মান, ফ্রেঞ্চ, আরবি, ইতালীয় বা কোরিয়ান ভাষা শেখার সুযোগ থাকবে। তাঁর মতে, তৃতীয় একটি আন্তর্জাতিক ভাষা শেখা শিক্ষার্থীদের বিদেশের শ্রমবাজার এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সুযোগ বাড়াবে। এটি কেবল শখের জন্য নয়, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির একটি কৌশল হিসেবে কার্যকর হবে।
তারেক রহমান খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে কেবল বিনোদনের অংশ হিসেবে না দেখে ‘ক্যারিয়ার’ ও ‘জাতীয় উন্নয়ন’—উভয়েরই অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সিলেবাসে ৬-৭টি খেলাধুলা (ফুটবল, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ইত্যাদি) যুক্ত করা হবে, শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো একটি বেছে নেবে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক হবে এবং পাস মার্ক দিতে হবে। খেলাধুলার পাশাপাশি চারুকলা ও সংস্কৃতি (গান, ছবি আঁকা, আবৃত্তি) বাধ্যতামূলক করা হবে, যা শিশুদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে সাহায্য করবে।
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকে কেবল ‘সনদ-সর্বস্ব’ না রেখে কর্মমুখী করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি নবম শ্রেণি পর্যন্ত তাত্ত্বিক এবং দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রাকটিক্যাল, ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল জ্ঞান প্রদান করে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হবে। এতে শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা চালিয়ে না গেলেও একটি নির্দিষ্ট কারিগরি দক্ষতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারবে।



