মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের চলমান সংঘাত বন্ধে একটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত, শান্তি প্রতিষ্ঠায় চার মুসলিম দেশের নতুন জোট গঠিত হয়েছে। সম্প্রতি ইসলামাবাদে মিসর, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা একটি বিশেষ বৈঠক করেছেন। ফলে, এটিকে এখন যুদ্ধবিরতির সেরা সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরাইলের প্রভাব সীমিত করার এটি একটি চমৎকার প্রাথমিক ধাপ।
মুসলিম দেশের নতুন জোট ও যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা
এই চারটি দেশ এর আগেও জোটবদ্ধভাবে নানা বিষয়ে আলোচনায় বসেছে। তবে, গত রোববারের ওই বিশেষ বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বন্ধ করা। তাই, আমেরিকা ও ইরানকে যুদ্ধবিরতির জন্য রাজি করানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য। ক্রাইসিস গ্রুপের উপসাগরীয় বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিন ফারুক এই বিষয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, চার মুসলিম দেশের নতুন জোট যুদ্ধবিরতিতে অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। কারণ, এই যুদ্ধ ইতোমধ্যে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
ইসরাইলের হামলা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সংকট
ইসরাইল ইতোমধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। ফলে, সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং তারা সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনাও করছে। বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিন ফারুক এই পরিস্থিতিকে সত্যিই একটি বড় দুঃস্বপ্ন বলে আখ্যায়িত করেছেন। মূলত, উপসাগরীয় দেশগুলো শুরুর দিকে যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই, পরিস্থিতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণের একদম বাইরে চলে যাচ্ছে। কারণ, তাদের পানি শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে।
পাকিস্তানের ভূমিকা ও ইরানের সাথে চুক্তি
গত রোববার ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তিতে পাকিস্তানের পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে, এই চুক্তি যুদ্ধবিরতির আলোচনায় ইসলামাবাদের আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই আলোচনার পর ইসলামাবাদ এখন ইরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। যাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার একটি পথ খোলা থাকে। একইভাবে, ইরানও এই চ্যানেলকে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছে।
মুসলিম দেশের নতুন জোট ও তুরস্কের অবস্থান
এই জোটের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় দেশ হলো তুরস্ক। তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক ইব্রাহিম কালিন এই বিষয়ে একটি কড়া বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, এ যুদ্ধের উদ্দেশ্য কেবল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিশ্চিহ্ন করা নয়। বরং, এটি দীর্ঘ মেয়াদে কুর্দি, তুর্কি ও আরবদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের পথ প্রশস্ত করবে। অন্যদিকে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও ইসরাইলের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ইসরাইলের মূল লক্ষ্য হলো মুসলিম দেশগুলোকে একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত করা।
আমেরিকার রাজনীতি ও যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন যে, আমেরিকার সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই এই যুদ্ধ চায় না। তাই, বর্তমান প্রশাসন এখন যুদ্ধের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। তবে আমেরিকার রাজনীতিতে বর্তমানে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। মূলত, ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগ করার মতো কোনো কার্যকর পন্থা তাদের হাতে নেই। সুতরাং, আমেরিকা যদি ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়, তবে তাদের কঠোর হতে হবে। পরিশেষে, ইসরাইলের ওপর অত্যন্ত কঠোর প্রভাব বিস্তারের জন্য তাদের সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।



