হামের টিকা

দেশে হঠাৎ করেই হামের সংক্রমণ অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার হামের টিকা ক্রয়ে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। মূলত, আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই এই টিকা পাওয়া যাবে। আজ সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য জানান। দুপুরে সচিবালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। ফলে, দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে এখন কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

হামের টিকা সংগ্রহ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ

জাতিসংঘের শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ থেকে এই টিকা সংগ্রহ করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ চালু করা হচ্ছে। একইসাথে, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর সরবরাহ এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুতের কাজও দ্রুত চলছে। কারণ, শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাই, এই নতুন টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালে আইসিইউ চালু ও নতুন ভেন্টিলেটর সরবরাহ

দেশে হামের সংক্রমণ বাড়লেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। মহাখালীতে একটি শিশুর মৃত্যুর পর বন্ধ থাকা আইসিইউ মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে চালু হয়েছে। অন্যদিকে, রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও, মানিকগঞ্জ ও রাজশাহীতে খুব দ্রুত নতুন ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে। সুতরাং, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকরা এখন দিনরাত অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন।

বিগত দিনের টিকাদান ঘাটতি ও বর্তমান প্রকোপ

গত এক দশকে দেশে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চালু ছিল। কিন্তু, ২০১৮ সালের পর আর বড় কোনো টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে, যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি তাদের মধ্যেই সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। যারা আগে টিকা পায়নি, তাদের অবস্থা এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাই, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকার জন্য বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউনিসেফকে পেমেন্ট ও দেশব্যাপী হামের টিকা কর্মসূচি

স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এই বিষয়ে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউনিসেফকে ইতোমধ্যে টিকার জন্য প্রয়োজনীয় পেমেন্ট করা হয়ে গেছে। এখন শুধু পারচেস কমিটির অনুমোদন পেলেই চূড়ান্ত অর্ডার দেওয়া হবে। পরিশেষে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে দেশব্যাপী এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে। মূলত, ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের এই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।