রাজধানীতে এক বিশেষ অভিযানে সাবেক সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল গ্রেপ্তার হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে আটক করে। মূলত, রাজধানীর সবুজবাগ এলাকার নিজ বাসা থেকেই তাকে ধরা হয়। ফলে, এই আটকের খবরটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তাই, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন তাকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শাপলা চত্বরের মামলায় সাবেক সিএমপি কমিশনারের সম্পৃক্ততা
ডিবি পুলিশ এই আটকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। তারা জানায়, ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় একটি বড় সহিংসতা হয়েছিল। সেখানে মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় করা একটি মামলায় তিনি প্রধান আসামি ছিলেন। কারণ, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা ছিল। সুতরাং, সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই পুলিশ এখন তাকে সফলভাবে আটক করেছে।
আব্দুল জলিল গ্রেপ্তার ও ডিবি পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান এই আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন। অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এই বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা ওই মামলায় তিনি সরাসরি অভিযুক্ত। তাই, আদালতের জারি করা পরোয়ানা অনুযায়ী তাকে আটক করা হয়েছে। খুব দ্রুতই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
মামলার নতুন তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে যে সম্প্রতি এই মামলার তদন্ত নতুন করে গতি পেয়েছে। মূলত, বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করার কাজ এখন চলছে। একইভাবে, পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নতুন সাক্ষ্য সংগ্রহ করছে। এরপর সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ আরও জোরদার করা হয়েছে। ফলে, এরই ধারাবাহিকতায় সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করা হলো।
আব্দুল জলিল গ্রেপ্তার ও তার অতীত কর্মজীবন
তিনি ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর তিনি ২০১৬ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দাপটের সাথে ওই পদে ছিলেন। এর আগে তিনি সিএমপিতে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবেও কাজ করেছেন। অন্যদিকে, তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন। পরিশেষে, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবেও তার দায়িত্ব পালনের রেকর্ড রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ এই মুহূর্তে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সাধারণ মানুষও এই হাই-প্রোফাইল আটকের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই মামলার তদন্তে আরও অনেক নতুন এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। তাই পুরো দেশজুড়েই এখন এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে।



