দেশে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব এখন সব খাতেই বেশ মারাত্মকভাবে পড়ছে। তাই, স্কুল পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর পাশাপাশি, বাকি তিন দিন শিক্ষার্থীরা সশরীরে তাদের ক্লাসে অংশ নেবে। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। ফলে, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এই বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়নি।
অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সভা
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মূলত, স্কুল ও কলেজের শিক্ষক, বোর্ড কর্মকর্তা এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এই গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভাতেই নতুন এই ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয় করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই, উপস্থিত সবাই এই নতুন প্রস্তাবের পক্ষে নিজেদের জোরালো মত দিয়েছেন। এছাড়া, এই সভায় ঢাকার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা তাদের নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রীর ইঙ্গিত ও পাঠদান পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন
এর আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান পদ্ধতিতে পরিবর্তনের একটি পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে পুরো বিশ্বেই এখন অস্থিরতা চলছে। সুতরাং, আমাদের দেশেও এখন জ্বালানি ব্যবহারে অনেক বেশি সাশ্রয়ী হতে হবে। মূলত, এই কারণেই স্কুলপর্যায়ে অনলাইন এবং সশরীরে ক্লাসের সমন্বয়ে একটি হাইব্রিড ব্যবস্থা চালুর কথা ভাবা হচ্ছে। একইভাবে, এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়েও ব্যাপকভাবে আলোচনা চলছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও সরকারের নতুন পদক্ষেপ
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। ফলে, দেশের অর্থনীতিকে স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহে তিন দিন ক্লাস বন্ধ থাকলে যাতায়াতের চাপ অনেক কমে যাবে। অন্যদিকে, রাস্তায় যানজট এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারও অনেকাংশে হ্রাস পাবে। তাই, এই নতুন পদ্ধতিটি শুধু জ্বালানি সাশ্রয়ই করবে না, বরং নগরবাসীর যাতায়াতের ভোগান্তিও অনেকটা কমিয়ে আনবে।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত
করোনা মহামারির সময় শিক্ষার্থীরা অনলাইনে পড়াশোনার সাথে বেশ ভালোভাবেই পরিচিত হয়েছে। তাই, নতুন করে এই পদ্ধতি চালু হলে তাদের খুব একটা সমস্যা হবে না। শিক্ষকরাও এখন অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ। তবে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধার বিষয়টি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে। পরিশেষে, সরকার সব দিক বিবেচনা করেই খুব শিগগিরই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অভিভাবকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা
সরকারের এই নতুন ভাবনা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং সমর্থন করছেন। কিন্তু, চাকরিজীবী বাবা-মায়েরা সন্তানদের বাসায় রেখে অফিসে যাওয়া নিয়ে কিছুটা চিন্তিত। তাই, তারা সরকারের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পরিশেষে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই বিষয়ে একটি চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।



