মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র। মূলত, জোহরান মামদানি অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল ইরান যুদ্ধে অর্থ ব্যয় কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তাই, তিনি চলমান এই সংঘাতের সব দিক থেকেই তীব্র বিরোধিতা করেছেন। ফলে, মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নতুন করে এক বড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, দেশের ভেতরেই এখন সাধারণ মানুষের মাঝে চরম অর্থনৈতিক সংকট চলছে।
ইরান যুদ্ধে অর্থ ব্যয় ও জোহরান মামদানির তীব্র নিন্দা
মেয়র মামদানি মনে করেন, এই যুদ্ধের আসলে কোনো ধরনের যৌক্তিকতা নেই। কারণ, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যৌথ আক্রমণ শুধু বিশ্বজুড়ে ধ্বংস ডেকে আনবে। তাই, তিনি অবিলম্বে এই সংঘাত বন্ধ করার অত্যন্ত জোর দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও অনেক দেশে যুদ্ধ করেছে। কিন্তু, ঐতিহাসিকভাবে সেই সব যুদ্ধের পরিণতি সব সময় অত্যন্ত ভয়াবহ হয়েছে। সুতরাং, অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এখন এই ভুল পথ থেকে সরে আসতে হবে।
নিউইয়র্ক সিটির সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি
জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন সাধারণ মানুষের ভোটে। মূলত, তিনি শহরের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর বড় একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু, এখন তিনি দেখছেন দেশের অর্থ অযথা বাইরের একটি যুদ্ধে খরচ হচ্ছে। তাই, তিনি এই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে নিজের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিখ্যাত ইউটিউবার ব্রায়ান টাইলার কোহেনকে সম্প্রতি একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানেই তিনি দেশের এই অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
বিপুল পরিমাণ ইরান যুদ্ধে অর্থ ব্যয় এবং অভ্যন্তরীণ ক্ষতি
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্যের একটি অত্যন্ত তীব্র সংকট চলছে। সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। কিন্তু, এই চরম সংকটের মাঝেও বাইরের যুদ্ধে প্রচুর অর্থ ঢালা হচ্ছে। মামদানির মতে, ইতোমধ্যেই এই অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়ে গেছে। তাই, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এখন একটি অত্যন্ত বড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। অন্যদিকে, এই বিশাল পরিমাণ অর্থ দিয়ে দেশের অনেক বড় উন্নয়ন করা সম্ভব ছিল।
সাধারণ নাগরিকদের অধিকার ও বিকল্প খাতে বিশাল বিনিয়োগ
এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্য খাতে বিনিয়োগ করলে দেশের চেহারা পালটে যেত। মামদানি বলেন, এই অর্থ মেডিকেয়ার বা স্বাস্থ্য খাতে সহজেই কাজে লাগানো যেত। এছাড়া, দেশের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি বা ছাত্র ঋণ বাতিলের মতো খাতেও দেওয়া যেত। ফলে, শ্রমজীবী মার্কিন নাগরিকদের জীবনমান মুহূর্তের মধ্যেই পুরোপুরি বদলে যেতে পারত। কিন্তু, আরেকটি শাসন পরিবর্তনের অবাস্তব স্বপ্ন দেখতে গিয়ে এই সবকিছুই ছুড়ে ফেলা হয়েছে।
শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা ও আগামী দিনের রাজনীতি
মার্কিন প্রশাসনের এই যুদ্ধংদেহী নীতি সাধারণ মানুষের কোনো কাজেই আসছে না। বরং, সাধারণ করদাতাদের কষ্টার্জিত টাকা এভাবেই প্রতিদিন বিদেশে উড়ে যাচ্ছে। তাই, আগামী দিনের মার্কিন রাজনীতিতে এর একটি বড় প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, সাধারণ জনগণ এখন দেশের ভেতরেই নিজেদের অধিকার নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। পরিশেষে, সরকারকে বাইরের দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের দেশের মানুষের দিকে নজর দিতে হবে।



