সুনামি সতর্কতা জারি

ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুক্কা সাগর অঞ্চলে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৪। এর পরপরই ওই অঞ্চলে ব্যাপক সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা ইউএসজিএস এই ভয়াবহ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। ফলে, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের মাঝে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ, এই মাত্রার ভূমিকম্পে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ হতে পারে।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মূলত, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। এর উপকেন্দ্রটি ইন্দোনেশিয়ার তেরনাতে শহরের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। তাই, এর প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত খুব ভালোভাবে অনুভূত হয়েছে।

উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি

ভূমিকম্পের পরপরই মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থা একটি জরুরি বার্তা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, উপকেন্দ্রের এক হাজার কিলোমিটারের মধ্যে এখন সুনামির চরম আশঙ্কা রয়েছে। মূলত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলে বিশাল ঢেউ আঘাত হানতে পারে। তাই, ইন্দোনেশিয়ার কিছু উপকূলে জোয়ারের চেয়েও উঁচু ঢেউ ওঠার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে, প্রশাসন দ্রুত ওই এলাকাগুলো খালি করার নির্দেশ দিচ্ছে।

অন্যান্য দেশের সতর্কতা ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

শুধু ইন্দোনেশিয়া নয়, আশেপাশের অন্যান্য দেশগুলোও এখন বেশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। গুয়াম, জাপান, মালয়েশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি এবং তাইওয়ানের উপকূলে ছোট ঢেউ আসতে পারে। তবে, জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে যে তাদের সেখানে বড় ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই। একইভাবে, অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরোও তাদের দেশের জন্য কোনো সুনামি হুমকি নেই বলে জানিয়েছে। সুতরাং, এই দেশগুলোর নাগরিকরা কিছুটা স্বস্তিতে আছেন।

স্থানীয়দের আতঙ্ক ও সুনামি সতর্কতা জারি

উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের মানাদো শহরে অবস্থানরত বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের কম্পনে ঘুমন্ত মানুষের ঘুম হঠাৎ ভেঙে যায়। ফলে, আতঙ্কিত মানুষ দ্রুত নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। তিনি আরও জানান যে, এই কম্পনটি অনেকক্ষণ ধরে স্থায়ী ছিল। তবে, বড় ধরনের কোনো বিল্ডিং ধসে পড়ার দৃশ্য তিনি এখনো দেখেননি।

রিং অব ফায়ার ও অতীতের ভয়াবহ স্মৃতি

ইন্দোনেশিয়া প্রায় ২৮ কোটির বেশি মানুষের একটি বিশাল দ্বীপমালা দেশ। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরের অত্যন্ত বিপজ্জনক ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। তাই, এখানে প্রায়ই এমন ভয়াবহ ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সুলাওয়েসিতে ভূমিকম্প ও সুনামিতে চার হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। এর আগে ২০০৪ সালেও দেশটিতে সুনামির কারণে ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটেছিল। পরিশেষে, প্রশাসন এখন নতুন কোনো বিপর্যয় এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।