বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে এবার বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়েছে। মূলত, যুদ্ধ শুরুর পর ইসরাইলের দিকে নিজেদের বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। বিখ্যাত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর এই ভয়াবহ হামলার খবরটি নিশ্চিত করেছে। ফলে, পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ এই সংঘাতের কারণে এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক বেশি উদ্বিগ্ন।

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও সাইরেন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ইরান ইসরাইলের দিকে প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দেয়। এই হামলাগুলোর প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তাই, ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তেল আবিব, শেফেলা এবং আশপাশের এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে। একইভাবে, ওই এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন বলে জানা গেছে।

বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও উদ্ধার কার্যক্রম

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো এই ভয়াবহ হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, কয়েকটি স্থানে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বা তার ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানতে পারে। তাই, সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উদ্ধারকারী দলগুলো এখন ঘটনাস্থলে জোরেশোরে কাজ করছে। এছাড়া, একটি ক্ষেপণাস্ত্রে “ক্লাস্টার ওয়ারহেড” ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। কারণ, এটি আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে ছোট ছোট বোমা চারদিকে ছড়িয়ে দেয়।

ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া ও তেহরানে বিস্তৃত হামলা

এই হামলার পর ইসরাইলি সামরিক বাহিনীও বসে নেই। তারা জানিয়েছে যে, তেহরানে ইরানের বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে তারা “বিস্তৃত হামলা” শুরু করেছে। মূলত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এই দীর্ঘস্থায়ী হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও পাল্টা জবাব

ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নিহতদের মাঝে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিও রয়েছেন। মূলত, এর কড়া প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ইরান এখন এই ধরনের মরণঘাতী পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ইরান ইসরাইল ছাড়াও অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে ড্রোন আক্রমণ চালিয়েছে। বিশেষ করে জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেখানেও আঘাত হানা হয়েছে।

বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব ও আগামী দিনের শঙ্কা

এই পালটাপালটি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এতে দুই পক্ষেরই ব্যাপক হতাহত ও বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতি হচ্ছে। অন্যদিকে, এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব এখন বৈশ্বিক বাজার ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলেও ব্যাপকভাবে পড়ছে। পরিশেষে, বিশ্বনেতারা যদি দ্রুত এই যুদ্ধ বন্ধে হস্তক্ষেপ না করেন, তবে আগামীতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।