বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে নানা ধরনের জল্পনাকল্পনা চলছে। এর মাঝেই মার্কিন জনগণের উদ্দেশে ইরানের প্রেসিডেন্টের খোলা চিঠি প্রকাশ পেয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই চিঠিটি লিখেছেন। মূলত, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। ফলে, বিশ্ব রাজনীতিতে এখন নতুন করে অনেক বড় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, এই চিঠিতে তিনি বেশ কিছু ঐতিহাসিক বিষয় সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
প্রেসিডেন্টের খোলা চিঠি ও ইরানের ঐতিহাসিক অবস্থান
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তার চিঠিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনো আগ্রাসনের পথে এগোয়নি। একইভাবে, তারা কখনো সম্প্রসারণ বা উপনিবেশবাদের নীতিও গ্রহণ করেনি। মূলত, ইরান কখনো নিজ থেকে কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেনি। কিন্তু, যারা অতীতে ইরানকে আক্রমণ করেছে, তাদের তারা কঠোর প্রতিরোধ করেছে। তাই, ইতিহাস ঘাটলে এর সত্যতা খুব সহজেই প্রমাণ করা যায়।
নিরাপত্তা হুমকি এবং বাস্তবতার মাঝে বিস্তর ফারাক
চিঠিতে পেজেশকিয়ান ইরানকে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, ইরানকে আগ্রাসী হিসেবে তুলে ধরা কখনোই বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। কারণ, এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি অপপ্রচার। তিনি বলেন, ইরান মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও ধারাবাহিক একটি সভ্যতা। সুতরাং, এমন একটি সভ্য দেশ কখনো অন্যের জন্য বড় হুমকি হতে পারে না। মূলত, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ইচ্ছা করেই এই ধরনের ভুল বার্তা ছড়াচ্ছে।
বহিরাগত স্বার্থ এবং ক্ষমতাধরদের রাজনৈতিক অপকৌশল
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান দাবি করেন, ইরানকে হুমকি হিসেবে দেখানোর পেছনে বহিরাগত স্বার্থ কাজ করছে। কারণ, ক্ষমতাধর দেশগুলো এর মাধ্যমে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণ করছে। একইভাবে, তারা বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক সুবিধা হাসিল করার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে, তারা নিজেদের চাপ প্রয়োগের নীতিকে বারবার বৈধতা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক আধিপত্য বজায় রাখাও এর একটি বড় উদ্দেশ্য।
প্রেসিডেন্টের খোলা চিঠি এবং অস্ত্র শিল্পের রমরমা বাণিজ্য
এই ধরনের অপপ্রচারের পেছনে অস্ত্র ব্যবসার একটি অত্যন্ত বড় হাত রয়েছে। মূলত, যুদ্ধ পরিস্থিতি টিকিয়ে রাখলে ক্ষমতাধর দেশগুলোর অস্ত্র শিল্প ব্যাপকভাবে লাভবান হয়। তাই, তারা কৌশলগত বাজার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সব সময় সুযোগ খোঁজে। ফলে, সাধারণ মানুষের মনে সব সময় একটি অমূলক ভীতি কাজ করে। পরিশেষে, এই ধরনের নোংরা রাজনীতি ও যুদ্ধের ফাঁদ থেকে পুরো বিশ্বকে এখন বেরিয়ে আসতে হবে।
মার্কিন জনগণের প্রতি আহ্বান ও আগামী দিনের প্রত্যাশা
বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই চিঠির খবরটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রচার করেছে। মূলত, মার্কিন সাধারণ জনগণ যেন প্রকৃত সত্যটি জানতে পারে, সেটাই এই চিঠির মূল লক্ষ্য। কারণ, সাধারণ মানুষের মতামত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। তাই, আগামী দিনে দুই দেশের মানুষের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি অনেকটা কমে আসবে। পরিশেষে, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্বজুড়ে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আশা করা যায়।



