সরকারি চাকরিতে শূন্য পদ

দেশে বর্তমানে শিক্ষিত বেকার তরুণদের প্রথম পছন্দ হলো একটি সরকারি চাকরি। কিন্তু, বিপুল সংখ্যক চাকরিপ্রত্যাশীর জন্য এখন একটি বড় খবর সামনে এসেছে। মূলত, দেশে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে শূন্য পদ রয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজার। বুধবার জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। ফলে, চাকরিপ্রত্যাশীদের মাঝে এখন নতুন করে অনেক বড় একটি আশার সঞ্চার হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে শূন্য পদ ও সংসদে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

বুধবার জাতীয় সংসদে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন করেন। মূলত, তার সেই প্রশ্নের জবাবেই জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এই বিশাল জনবলের হিসাব তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই হালনাগাদ তথ্য তৈরি করা হয়েছে। তাই, স্ট্যাটিস্টিক্স অফ পাবলিক সার্ভেন্ট ২০২৪ অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন কর্মরত আছেন।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে জনবলের বর্তমান চিত্র

প্রতিমন্ত্রী তার বিস্তারিত বক্তব্যে বিভিন্ন শ্রেণির জনবলের একটি পরিষ্কার হিসাব দিয়েছেন। তিনি জানান, প্রথম শ্রেণির চাকরিতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন কর্মকর্তা। অন্যদিকে, এই প্রথম শ্রেণিতে এখনো ৬৮ হাজার ৮৮৪টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি পড়ে আছে। একইভাবে, দ্বিতীয় শ্রেণিতে বর্তমানে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন কর্মকর্তা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করছেন। কিন্তু, এই শ্রেণিতেও বর্তমানে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি পদ পুরোপুরি শূন্য রয়েছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সর্বশেষ পরিসংখ্যান

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা সরকারি কাজের একটি অত্যন্ত বড় অংশ সামলান। বর্তমানে তৃতীয় শ্রেণিতে মোট ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। তবে, এই শ্রেণিতেও বিপুল সংখ্যক অর্থাৎ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি পদ খালি রয়েছে। অন্যদিকে, চতুর্থ শ্রেণিতে এখন কর্মরত আছেন মোট ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৭৭ জন কর্মচারী। সুতরাং, এই শ্রেণিতেও ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ এখনো শূন্য পড়ে আছে। এছাড়া অন্যান্য ক্যাটাগরিতে কর্মরত রয়েছেন ৭ হাজার ৯৮০ জন এবং শূন্য পদ রয়েছে ৮ হাজার ১৩৬টি।

সরকারি চাকরিতে শূন্য পদ পূরণের চলমান প্রক্রিয়া

সংসদে মূল প্রশ্নের উত্তরের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পূরক প্রশ্নও করা হয়। মূলত, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম এই শূন্য পদগুলো পূরণের নির্দিষ্ট সময়সীমা জানতে চান। এর জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বিষয়টি পরিষ্কার করে দেন। তিনি বলেন, শূন্য পদ পূরণ করা সরকারের একটি নিয়মিত ও চলমান প্রক্রিয়া। তাই, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী খুব দ্রুতই এই পদগুলোতে নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে।

বেকারত্ব দূরীকরণ ও আগামী দিনের প্রত্যাশা

দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা দিন দিন অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই, এই বিপুল সংখ্যক শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হলে বেকারত্ব অনেকটা কমে আসবে। কারণ, তরুণ প্রজন্ম এখন দেশের সেবা করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে, সরকারি কাজেও এখন আরও অনেক বেশি গতিশীলতা আসবে। পরিশেষে, খুব শিগগিরই এই পদগুলোর জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা যায়।