বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জেনারেল মাসুদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে আটক করে। ডিবি প্রধান ডিআইজি শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমের কাছে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারের কারণ ও বর্তমান মামলা
ডিবি প্রধান জানিয়েছেন, জেনারেল মাসুদ গ্রেপ্তার সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীর মহিপালে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ঘটেছিল। সেখানে অস্ত্রধারীদের নির্বিচার গুলিতে অন্তত ১১ জন শহীদ হন। ওই ঘটনার অন্যতম অভিযুক্ত আসামি তিনি। কিন্তু প্রায় দুই বছর পার হলেও তাকে ধরা হয়নি। অবশেষে সোমবার রাতে তাকে আটক করা হলো। তাছাড়া মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি নিয়ে সিন্ডিকেট তৈরি এবং সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
কে এই জেনারেল মাসুদ?
জেনারেল মাসুদ ছিলেন ২০০৭ সালের এক-এগারোর (১/১১) সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী কুশীলব। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি। সে সময় তিনি সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে তিনি কথিত ‘গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সমন্বয়ক ছিলেন। ফলে পর্দার আড়াল থেকে তিনিই মূলত যৌথ বাহিনীর সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন। মজার বিষয় হলো, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই মরহুম সাঈদ ইস্কান্দারের ভায়রা ভাই। সেই আত্মীয়তার সুবাদেই তিনি নবম ডিভিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
এক-এগারোর বিতর্কিত ভূমিকা ও রাজনীতি
সেই জরুরি অবস্থার সময় দেশের শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের গণহারে গ্রেপ্তার করা হয়। মূলত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বিশেষ করে, তারেক রহমানকে রিমান্ডে নিয়ে নির্মম নির্যাতন ও মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার মতো ভয়াবহ অভিযোগ রয়েছে জেনারেল মাসুদের বিরুদ্ধে।
পরবর্তীতে সেনাপ্রধানের সাথে সম্পর্কের অবনতি হলে ২০০৮ সালে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় হাইকমিশনার করে পাঠানো হয়। এরপর অবসরে গিয়ে তিনি ২০১৮ সালে এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। সেখান থেকে তিনি ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন। পাশাপাশি তিনি জনশক্তি রপ্তানি ও অভিজাত রেস্টুরেন্ট ব্যবসাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন।



