আগামীকাল ২৫ মার্চ কালরাতের স্মরণে সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাক-আউট বা অন্ধকার কর্মসূচি পালন করা হবে। সোমবার (২৩ মার্চ) সরকারের একটি তথ্য বিবরণী থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত ‘২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ২০২৬’ যথাযথ মর্যাদায় পালন করার উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে ওইদিন রাত ঠিক ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত পুরো দেশ এক মিনিটের জন্য অন্ধকারে থাকবে। এই কর্মসূচি সফল করতে সব নাগরিকের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
জরুরি স্থাপনায় প্রতীকী ব্ল্যাক-আউট শিথিল
তবে এই প্রতীকী ব্ল্যাক-আউট অন্ধকার কর্মসূচির কিছু বিশেষ ব্যতিক্রমও রয়েছে। কারণ কেপিআই (KPI) বা রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো এই নিয়মের একেবারে বাইরে থাকবে। এছাড়া দেশের সব হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও স্বাভাবিকভাবে আলো জ্বলবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশন বা দূতাবাসগুলোও এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে। সুতরাং সাধারণ মানুষের জরুরি চিকিৎসা বা অন্যান্য প্রয়োজনে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না। সরকার এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আগে থেকেই সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
২৫ ও ২৬ মার্চ আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
অন্যদিকে, এই বছর জাতীয় দিবসগুলো পালনের ক্ষেত্রে কিছু নতুন ও কঠোর নিয়ম যোগ করা হয়েছে। সরকারি তথ্য বিবরণীতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ২৫ মার্চ রাতে কোনো অবস্থাতেই সরকারি বা বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জা করা যাবে না। তাছাড়া আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোকেও একই নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের চরম জ্বালানি সংকটের বিষয়টিও সরকার বিশেষভাবে মাথায় রেখেছে। তাই বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে উদ্দেশ্যে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসেও দেশব্যাপী কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা হবে না। ফলে এবারের স্বাধীনতা দিবসটি একটু ভিন্নভাবে পালিত হবে।
কেন এই অন্ধকার কর্মসূচি পালন করা হয়?
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। যা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচিত। ইতিহাসের এই ভয়াল কালো অধ্যায়কে স্মরণ করতেই মূলত জাতীয়ভাবে এই দিনটিতে গণহত্যা দিবস পালন করা হয়। তাই সেই কালরাতের ভয়াল স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং শহীদদের স্মরণ করতে এক মিনিটের এই অন্ধকার কর্মসূচি পালন করা হয়।



