আগামী ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও কালরাতে সারাদেশে আগে থেকে নির্ধারিত এক মিনিটের অন্ধকার কর্মসূচি এবার পালন করা হচ্ছে না। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে আকস্মিকভাবে এই প্রতীকী ব্ল্যাক আউট বাতিল করার নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে ২৫ মার্চ রাতে নির্দিষ্ট সময়ে দেশের কোথাও আলো নেভানো হবে না। সাধারণ মানুষের মাঝে এই নতুন ঘোষণা নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ সকালেই সরকারিভাবে এই কর্মসূচি পালনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল।
হঠাৎ কেন এই প্রতীকী ব্ল্যাক আউট বাতিল করা হলো?
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের কাছে একটি জরুরি বার্তা পাঠিয়েছেন। ওই বার্তায় তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, আগামী ২৫ তারিখ রাতে পূর্বঘোষিত ১ মিনিটের ব্ল্যাক আউট বা অন্ধকার কর্মসূচি এবার আর অনুষ্ঠিত হবে না। তবে ঠিক কী কারণে শেষ মুহূর্তে এসে এই প্রতীকী ব্ল্যাক আউট বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো কারণ বা ব্যাখ্যা উল্লেখ করেননি। সুতরাং হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনের আসল কারণটি এখনো সবার কাছে পুরোপুরি অজানা রয়ে গেছে।
সকালে দেওয়া সরকারি ঘোষণায় যা বলা হয়েছিল
অথচ মঙ্গলবার সকালেই সরকারি একটি তথ্য বিবরণীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলা হয়েছিল। সেখানে জানানো হয়েছিল, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের প্রথম প্রহর স্মরণ করতে রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত সারাদেশে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। তাছাড়া কেপিআই, হাসপাতাল, জরুরি স্থাপনা এবং বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশনগুলো এই কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবে বলেও তখন জানানো হয়েছিল। কিন্তু রাতের বেলাতেই সেই সিদ্ধান্ত থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ।
২৫ মার্চের ইতিহাস এবং আগের কর্মসূচিগুলোর প্রেক্ষাপট
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে এক বর্বর সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। সেই রাতের আঁধারে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পুরো ঢাকাজুড়ে নির্মম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। অন্যদিকে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কালরাতের স্মরণে প্রথম এই এক মিনিট অন্ধকার কর্মসূচি জাতীয়ভাবে চালু করা হয়েছিল। এমনকি গত বছরও রাত ১০টা থেকে ১০টা এক মিনিট পর্যন্ত দেশজুড়ে এমন কর্মসূচি পালন করা হয়। অবশেষে এবারের পরিবর্তিত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ মার্চ রাতে দেশজুড়ে আর কোনো অন্ধকার কর্মসূচি থাকছে না। বরং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমেই দিনটি স্মরণ করা হবে।



