একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়াবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বগুড়ার আলতাফুন্নেসা মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি নিজের জন্য এবং বগুড়ার অন্যান্য আসনের প্রার্থীদের জন্য ধানের শীষে ভোট চান।

সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, “এই মুহূর্তে আপনাদের দেওয়ার মতো আমার কিছু নেই। এই মুহূর্তে আপনাদের কাছে শুধু চাইবার আছে। আমি যে এত রাতে সভা করছি, রাজনীতি করছি—এই কাজগুলো আমার স্ত্রী সহযোগিতা না করলে আমি পারতাম না। তাঁর সহযোগিতা আছে বলেই আমি পেরেছি।”
তিনি বলেন, “ঠিক একইভাবে আপনারা বগুড়ার মানুষ যদি আমার পাশে থাকেন, আমাকে যদি মানসিক শক্তি ও সমর্থন দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে আগামী দিনে একটি সুন্দর, ভালো ও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারব। এজন্য আমি আপনাদের কাছে এসেছি সমর্থন, সহযোগিতা ও দোয়া চাইতে।”
তারেক রহমান আরও বলেন, “আপনাদেরই আরেক সন্তান শহীদ রহমান সবসময় বলতেন—দেশ গড়তে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমরা কাজ না করলে দেশকে গড়ে তুলতে পারব না। সেই ভাবনা থেকেই আমি সবসময় বলি—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।”
তিনি বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে সমগ্র বগুড়া জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন, গ্রাম, উপজেলা ও পৌরসভার মানুষের কাছে আমি দোয়া চাই—যাতে আপনারা আপনাদের এই সন্তান তারেক রহমানকে নিয়ে গর্ব করতে পারেন।”
‘বগুড়াকে বিতর্কিত করা যাবে না’

তারেক রহমান বলেন, “আল্লাহ চাইলে সরকার গঠন করলে শুধু নিজের এলাকার কথা চিন্তা করলে চলবে না। বগুড়াবাসীকে নিজের জেলার পাশাপাশি সমগ্র দেশের কথাও ভাবতে হবে। আপনাদের সমগ্র দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে—ইনশাআল্লাহ পারবেন।”
তিনি বলেন, “চাকরি-বাকরি বা ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে। আমরা চাই না কেউ বলুক—বগুড়া বলেই কেউ সব পাচ্ছে। আমরা বগুড়ার নাম কখনো খারাপ করতে চাই না। বগুড়ার ন্যায্য অধিকার অবশ্যই বগুড়া পাবে।”
‘নিজের ঘরে আসায় শুকরিয়া’
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, “আমি প্রথমেই আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। প্রায় ১৯ বছর পর আল্লাহ আমাকে আবার নিজের ভূমিতে ফিরে আসার তৌফিক দিয়েছেন। প্রিয় বগুড়াবাসী, নিজের ঘরে এসে আমি নিজেও অনেকটা আবেগাপ্লুত। ঘরের মানুষের কাছে আলাদা করে বলার কিছু থাকে না।”
২০০১–২০০৫ সালে বগুড়ায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা শতভাগ সফল না হলেও সরকারের আইন-কানুন ও রীতিনীতির মধ্যে থেকে যতটুকু সম্ভব হয়েছে, মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করেছি। বনানী–মাটিডালি সড়ক, প্রশস্ত রাস্তা, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, গ্যাস লাইনসহ নানা উন্নয়ন তার উদাহরণ।”
তিনি বলেন, “বগুড়াকে আমি সবসময় একটি মডেল জেলা হিসেবে ভাবতাম। আল্লাহ সুযোগ দিলে বাংলাদেশের ৬৩টি জেলাকেই বগুড়া মডেলের মতো গড়ে তুলতে চাই।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে দেশ কোন পথে যাবে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দেশকে নিতে হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করীম বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য একেএম মাহবুবুর রহমান, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ভিপি সাইফুল ইসলামসহ জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
শুক্রবার বিকেলে তারেক রহমান সড়কপথে রংপুরের পীরগঞ্জে গিয়ে ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি রংপুর ঈদগাহ মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।



