প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ হিসেবে পরিচিত জাপানে ফের একটি বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাপানে ভূমিকম্প আঘাত হানার এই সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স এবং জার্মানির ভূবিজ্ঞান গবেষণা সংস্থা ‘জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস’ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জাপানের বৃহত্তম দ্বীপ হনশুর পূর্ব উপকূলে ৬ দশমিক ২ মাত্রার এই শক্তিশালী কম্পনটি ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়। ফলে গভীর রাতে স্থানীয় সাধারণ বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জাপানে ভূমিকম্প ও উৎপত্তিস্থলের বিস্তারিত
জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা সংস্থার প্রাথমিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, এই কম্পনটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার বা ৬ দশমিক ২ মাইল গভীরে। কারণ সাধারণত এত কম গভীরতায় ভূকম্পন সৃষ্টি হলে ভূপৃষ্ঠে তার তীব্রতা অনেক বেশি মাত্রায় অনুভূত হয়। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই দুর্যোগে কোনো হতাহত কিংবা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তাছাড়া সুনামি বিষয়েও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়নি। সুতরাং উপকূলীয় এলাকার মানুষ আপাতত নিরাপদেই আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগের দিনের কম্পন ও জনমনে আতঙ্ক
এই বড় মাত্রার কম্পনের ঠিক আগের দিনও দেশটিতে একটি মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছিল। প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী, গত বুধবার জাপানের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৩১ মিনিটে সেখানে আরও একটি ৪ দশমিক ২ মাত্রার ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। সেই কম্পনের উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে। তাই পরপর দুই দিন এমন বড় দুর্যোগের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বহুগুণ বেড়ে গেছে। কারণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়।
কর্তৃপক্ষের সতর্কতা ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি
যেকোনো ধরনের বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় জাপানের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত। দেশটির প্রতিটি বহুতল ভবন এবং সাধারণ অবকাঠামোগুলো এমন উন্নত প্রযুক্তিতে নির্মাণ করা হয়, যাতে সেগুলো শক্তিশালী ভূকম্পন সহজেই সহ্য করতে পারে। তবুও পরপর এমন কম্পনের ফলে স্থানীয় প্রশাসন জনগণকে সব সময় সতর্ক থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। কারণ যেকোনো সময় বড় ধরনের আফটারশক বা পরবর্তী কম্পন আঘাত হানার প্রবল সম্ভাবনা থেকেই যায়। পরিশেষে বলা যায়, সঠিক প্রস্তুতি এবং কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের ফলেই এমন ভয়াবহ দুর্যোগেও জাপানে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।



