প্রতি আউন্স স্বর্ণ ৫ হাজার ২০০ ডলারের মাইলফলক

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২১৯ দশমিক ৯৭ ডলারে পৌঁছে নতুন এই রেকর্ড গড়ে।

চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মার্কেটেও ২ দশমিক ৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির পর লেনদেন হয়েছে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২১৬ দশমিক ৮০ ডলারে।

মার্কিন ডলারের বিনিময় হার গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসা এবং ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। এ কারণেই স্বর্ণের দামে এমন উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওংয়ের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের পর ডলারের মান আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্বর্ণবাজারকে চাঙা করেছে। ট্রাম্প ডলারের মূল্যকে ‘অত্যধিক’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর সুদের হার কমাতে পারেন।

সুদের হার কমার সম্ভাবনায় ডলার দুর্বল হয়ে পড়েছে, ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, অদূর ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২৪০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম চলতি বছরের শুরু থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১১৩ দশমিক ৬৩ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৭৯ দশমিক ১৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৯৫১ দশমিক ৯৩ ডলার।

ডয়চে ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডলারের বিকল্প হিসেবে বাস্তব সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ায় ২০২৬ সালের মধ্যে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৬ হাজার ডলারে পৌঁছানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডলারের দুর্বলতা ও ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার এই ঊর্ধ্বগতি আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে।

বর্তমানে স্বর্ণ বিনিয়োগকারীদের কাছে কেবল অলঙ্কার নয়, বরং অর্থনৈতিক অস্থিরতা থেকে সুরক্ষার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বর্ণের পরিমাণ বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।   সূত্র: রয়টার্স