ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের শিকার হয়ে বর্তমানে বেশ কঠিন সময় পার করছে ইরান। এই চরম সংকটের মুহূর্তে সম্পূর্ণ মানবিক কারণে ইরানের পাশে কাশ্মীরিরা এসে দাঁড়িয়েছেন। ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ তাদের নিজেদের সাধ্যমতো সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছেন। ফলে সেখানে এক অভূতপূর্ব মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। কারণ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই দুর্গত মানুষের জন্য সাহায্য সংগ্রহ করছেন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর থেকেই মূলত এই ত্রাণ সংগ্রহের কাজ ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে।
অভাবনীয় সাহায্য নিয়ে ইরানের পাশে কাশ্মীরিরা
বিশেষ করে কাশ্মীরের বদগাম ও বারামুল্লাসহ বিভিন্ন শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় এই কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। সেখানে সাধারণ মানুষ শুধু নগদ অর্থ দিয়েই থেমে নেই। তাছাড়া তারা নিজেদের জমানো স্বর্ণ ও রুপার গহনা, এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালির জিনিসপত্রও দান করছেন। অন্যদিকে, গ্রামের অনেক মানুষ তাদের গবাদি পশু পর্যন্ত এই ত্রাণ তহবিলে দিয়ে দিচ্ছেন। সুতরাং সমাজের সর্বস্তরের মানুষজন এই অভাবনীয় উদ্যোগে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছেন। নারীরাও পিছিয়ে নেই, বরং তারাও নিজেদের ব্যক্তিগত স্বর্ণালংকার হাসিমুখে দান করে দিচ্ছেন।
২৮ বছর ধরে রাখা স্মৃতিচিহ্ন দান
এই ত্রাণ সংগ্রহের মাঝে অনেক আবেগঘন ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে। যেমন একজন নারী তার প্রয়াত স্বামীর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ২৮ বছর ধরে সযত্নে রাখা একটি স্বর্ণের স্মারক অবলীলায় তুলে দিয়েছেন। কারণ তিনি মনে করেন, বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় ধর্ম। মূলত এমন অসংখ্য ছোট-বড় ত্যাগের মাধ্যমেই এই তহবিল প্রতিদিন একটু একটু করে বড় হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানে লোকজনকে একটি কমিউনিটি সেন্টারে সমবেত হয়ে মূল্যবান গহনা ও নগদ অর্থ এক জায়গায় জমা করতে দেখা যায়।
ভারতের ইরানি দূতাবাসের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
এই অভাবনীয় সাহায্য দেখে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস দারুণভাবে আবেগাপ্লুত হয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে ত্রাণ সংগ্রহের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেছে। পাশাপাশি তারা সাধারণ মানুষের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসাও করেছে। ইরানি দূতাবাস তাদের বার্তায় জানিয়েছে যে, কৃতজ্ঞতায় পূর্ণ হৃদয়ে তারা কাশ্মীরের সহৃদয় মানুষদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছে। কারণ এমন গভীর সংহতি নিয়ে ইরানের পাশে কাশ্মীরিরা যেভাবে দাঁড়িয়েছেন, তা সত্যিই বিরল। পরিশেষে তারা জানায়, ভারতবাসীর এই সহৃদয়তা ও ভালোবাসা কখনোই ভোলা যাবে না।



