বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়।

গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে রাত সাড়ে ১০টার পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান ইতোমধ্যে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থায়ী কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করে। পাশাপাশি নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর সফলতা কামনা করে দোয়া করা হয়।

গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। এর ১০ দিনের মাথায় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে দলের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ঢাকার পূর্বাচলে তাঁকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তাঁকে স্বাগত জানাতে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

তারেক রহমানের রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৮ সালে। বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সদস্য হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব দৃশ্যমান হতে থাকে। ওই নির্বাচনে দলীয় কৌশল নির্ধারণ ও মাঠপর্যায়ে সংগঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০০২ সালে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত হন এবং ২০০৯ সালে বিএনপির পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন ঘটে। ওই বছরের ৭ মার্চ তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। প্রায় ১৮ মাস কারাবাসের পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। লন্ডনে অবস্থানকালেই ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী হলে তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। সে সময় তিনি যুক্তরাজ্য থেকেই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দল পরিচালনা ও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে দলের নেতৃত্বের সর্বোচ্চ দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান।