লেখকঃ আনিকা শারমিলা রিতি, নিউট্রিশনিস্ট
শীতের সময়ে শরীর উষ্ণ রাখতে শীতের পোশাকের পাশাপাশি আমরা অনেকটাই খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি। কারণ এমন অনেক খাবার রয়েছে, যা ভেতর থেকে শরীরকে উষ্ণ রাখতে সহায়তা করে। তবে এই সময় অনেকেই মুখরোচক ও ভারী খাবার বেশি খেয়ে ফেলেন, যা পেটের স্বাস্থ্যের জন্য সবসময় উপকারী নয়। আপনি যদি লক্ষ্য করেন যে শীতকালে আপনার পেটে ব্যথা বা বদহজমের সমস্যা বাড়ে, তাহলে আপনি একা নন।
শরীর ঠান্ডা তাপমাত্রার মুখোমুখি হলে বিপাকীয় প্রক্রিয়াগুলো অনেক সময় ধীর হয়ে যায়, ফলে পাচনতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে শীতের মৌসুমে কিছু সচেতন অভ্যাসের মাধ্যমে হজম ক্ষমতা ভালো রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক—
ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার:
দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়—উভয় ধরনের ফাইবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। দ্রবণীয় ফাইবার (গাজর, ওটস, আপেল) জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে, যা মল নরম করে। অন্যদিকে অদ্রবণীয় ফাইবার (সবুজ শাকসবজি, বাদাম, গোটা শস্য) মলের পরিমাণ বাড়িয়ে অন্ত্রের চলাচল সহজ করে।
প্রোবায়োটিক ও গাঁজানো খাবার:
শীতকালে প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার যেমন দই অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া যোগ করে, যা হজমে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
স্বাস্থ্যকর তরল পানীয়:
পাচনতন্ত্র সক্রিয় রাখতে হালকা গরম পানিতে লেবু বা আদা মিশিয়ে পান করতে পারেন। আদা, পুদিনা পাতা ও মৌরির মতো ভেষজ চা পরিপাকতন্ত্রকে প্রশমিত করে এবং হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
মসলা:
খাবারে আদা, হলুদ, জিরা, ধনে, এলাচ ও দারুচিনি যোগ করলে তা হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে।
স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার:
স্বাস্থ্যকর চর্বি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। যেমন—ঘি, বাদাম, বিভিন্ন বীজ, জলপাই তেল ও তিলের তেল।
শুকনো ফল:
বাদাম, আখরোট ও খেজুর ফাইবার, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিতে ভরপুর, যা হজমে সহায়ক।
সময়মতো খাবার খাওয়া:
খাবার এড়িয়ে যাওয়া বা খুব দেরিতে খাওয়ার ফলে অম্লতা ও বদহজমের সমস্যা হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
শারীরিক ব্যায়াম:
ঘরে বসে প্রতিদিন ২০–৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম, যোগব্যায়াম কিংবা ঘরের ভেতরে দ্রুত হাঁটা পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করে। ভালো হজমের জন্য এমন ব্যায়াম বেছে নিন, যা আপনি উপভোগ করেন।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ:
অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই মানসিক চাপ কমানো জরুরি। প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঘুমকে অগ্রাধিকার দিন। সুস্থ শরীর ও মন ভালো হজমের জন্য সহায়ক।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শীতকালে হজমের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। বরং ঋতুভেদে দৈনন্দিন রুটিনে সামান্য সচেতন সমন্বয়ই সুস্থ থাকার জন্য যথেষ্ট।



