কৃষি উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে ডিএপি, টিএসপি ও ইউরিয়া সার আমদানির পাশাপাশি দেশীয় উৎস থেকে সার ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মরক্কো, সৌদি আরব এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে মোট ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী সরকার ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি, ৬০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি এবং ৭০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সংগ্রহ করবে। এসব সার ক্রয়ে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৭০ কোটি ৯১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭৫ টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ১১তম লটের (ঐচ্ছিক তৃতীয়) ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৩১৯ কোটি ৫১ লাখ ৮ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন ডিএপি সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫১ মার্কিন ডলার।
এছাড়া একই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৭তম লটের (নিশ্চিত ১৪তম) ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন টিএসপি সারের দাম ৫০১ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার।
মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকেই ১৮তম লটের (নিশ্চিত ১৫তম) আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও একই দামে সার কেনা হবে।
অন্যদিকে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের আলোকে সৌদি আরবের মা’আদেন কোম্পানি ও বিএডিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালের প্রথম লটের ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৩২৩ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন ডিএপি সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৬০ মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ১২তম লটের ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৫৩ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৫ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম ৪১৫ দশমিক ৮৭৫ মার্কিন ডলার।
একই অর্থবছরের জন্য সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিনেটস কোম্পানি থেকে ১৭তম লটের ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। এতে ব্যয় হবে ২০৫ কোটি ৩১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম নির্ধারিত হয়েছে ৪১৮ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষি মৌসুমে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং উৎপাদন ব্যাহত না করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


