তেলের সংকট

দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেল নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বেশ উদ্বেগ রয়েছে। তাই, চলমান এই তেলের সংকট নিয়ে মুন্সীগঞ্জে এক অত্যন্ত ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা গেছে। মূলত, তেলের অভাবে একটি মোটরসাইকেল ভ্যানে করে সরাসরি পাম্পে আনা হয়েছে। বুধবার বিকেলে টংগিবাড়ী উপজেলার সোনারং এলাকায় এই অবাক করা ঘটনাটি ঘটে। ফলে, রাস্তার এই বিরল দৃশ্যটি উপস্থিত সবার দৃষ্টি দারুণভাবে আকর্ষণ করেছে।

তেলের সংকট এবং পাম্পে দীর্ঘ অপেক্ষার চিত্র

সরেজমিনে মেসার্স কে আলী ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় সম্পূর্ণ অন্যরকম এক চিত্র। সেখানে পাম্পে তেল নিতে শতাধিক মোটরসাইকেল সারিবদ্ধভাবে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছিল। এর মাঝেই হঠাৎ একটি মোটরসাইকেল ভ্যানের ওপর করে এনে সেই লাইনে রাখা হয়। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ঠিক ওই সময়েই পাম্পের মজুত করা সব তেল শেষ হয়ে যায়। ফলে, এত দূর থেকে এসে চরম বিপাকে পড়েন ওই মোটরসাইকেলটির মালিক যুবক ইমরান হোসেন।

পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় বিশেষ ব্যবস্থায় তেল সংগ্রহ

এই মানবিক ঘটনাটি টংগিবাড়ী থানার পুলিশের এএসআই শফিকুল ইসলামের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই পাম্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে একটি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করেন। মূলত, তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় ওই মোটরসাইকেলের জন্য কোনোমতে ২০০ টাকার তেল জোগাড় করে দেন। কারণ, যুবকটি অনেক দূর থেকে অনেক কষ্ট করে পাম্পে এসেছিলেন। তাই, পুলিশের এই চমৎকার মানবিক সহায়তায় উপস্থিত স্থানীয়রা বেশ আনন্দিত হয়েছেন।

জরুরি কাজে বেরিয়ে মাঝপথে তেলের সংকট

ভ্যানচালক এই ঘটনার পেছনের মূল কারণটি সাংবাদিকদের কাছে বিস্তারিতভাবে জানান। তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার হাতিমারা এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন জরুরি কাজে বের হয়েছিলেন। তিনি টংগিবাড়ীর কালীবাড়ি এলাকায় যাওয়ার সময় পথিমধ্যেই হঠাৎ করে তার মোটরসাইকেলের তেল একদম শেষ হয়ে যায়। এরপর, তিনি আশপাশের এলাকায় স্থানীয়ভাবে কোথাও কোনো তেল খুঁজে পাননি। সুতরাং, কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের এই ফিলিং স্টেশনে ভ্যানে করে আসেন।

পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় ও উত্তেজনা

পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তাদের স্টেশনে তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। এরপর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নতুন করে কিছু অকটেন সরবরাহ শুরু হয়। মূলত, এর পর থেকেই মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় সেখানে প্রচণ্ডভাবে বাড়তে থাকে। যদিও সেখানে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবুও সিরিয়াল নিয়ে গ্রাহকদের মাঝে মাঝেমধ্যেই চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তাই, পরিস্থিতি ভালোভাবে সামাল দিতে প্রতি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ মাত্র ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছিল।

সরকারি ঘোষণা ও বাস্তব পরিস্থিতির মাঝে ফারাক

মেসার্স কে আলী ফিলিং স্টেশনের মালিক শহিদুল ইসলাম বর্তমান সংকটময় অবস্থাটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ এক সপ্তাহ পর তেল পেয়ে তারা উৎসাহের সাথে বিক্রি শুরু করেছিলেন। কিন্তু, গ্রাহকদের চাহিদা এত বেশি যে তা সামাল দিতে তারা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। ফলে, বুধবার বিকেলের মাঝেই তাদের পাম্পের সব তেল পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, সরকারিভাবে দেশে তেলের কোনো অভাব নেই বলে বারবার বলা হচ্ছে। তবে, বাস্তবে তারা চাহিদামতো পর্যাপ্ত সরবরাহ পাচ্ছেন না, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।