সিন্ডিকেটের চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত ব্যবসা বন্ধ করে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন স্বনামধন্য পোশাক ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে দেশ ছাড়লেন নবীন পাঞ্জাবির মালিক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন। তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ফলে তার অগণিত গ্রাহক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। কারণ তিনি সব সময় ন্যায্যমূল্যে উন্নত মানের পোশাক বিক্রি করার চেষ্টা করতেন। মূলত এই সততাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন দেশ ছাড়লেন নবীন পাঞ্জাবির মালিক?
ফেসবুক পোস্টে এনামুল হাসান নবীন তার অসহায়ত্বের কথা খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন যে, তিনি সিংহের মতো বাঁচতে চান। কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে নিজের সন্তানদের এতিম করতে চান না। তাই বাধ্য হয়েই তিনি দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তাছাড়া দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন তিনি আবার দেশে ফিরবেন বলেও দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছেন। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে, একটি অসাধু চক্র তাকে চরমভাবে মানসিক চাপে রেখেছিল। যার কারণে তিনি এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
সিন্ডিকেটের চাপ ও মূল্য নির্ধারণের অভিযোগ
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলেই তিনি একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন যে, একটি অসাধু সিন্ডিকেট তাদের পণ্যের মূল্য জোরপূর্বক নির্ধারণ করে দিয়েছে। ওই চক্রের নির্দেশ অনুযায়ী, কোনো পাঞ্জাবি ৪ হাজার ৫০০ টাকার নিচে এবং পাজামা ১ হাজার ৫০০ টাকার নিচে বিক্রি করা যাবে না। অন্যদিকে, এই ধরনের সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরেই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ গ্রাহকের কাছে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা। এ কারণেই তারা বাধার মুখে পড়েন।
নবীন পাঞ্জাবির মালিক দেশ ছাড়লেন কেন?
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, তাদের প্রতিনিয়ত ফোন করে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি একটি নির্দিষ্ট ভিডিও ডিলিট না করলে সব শোরুম চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে দাবি করেন যে, তারা নিজেরা ওই ভিডিও করেননি। বরং তাদের একজন সাধারণ গ্রাহক ভিডিও করে সেটি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। আর সেখান থেকেই মূলত এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। সাধারণ ক্রেতারা সিন্ডিকেটের এই দৌরাত্ম্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কারণ বর্তমান বাজারে যখন সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া, তখন এমন সাশ্রয়ী মূল্যের একটি ব্র্যান্ড বন্ধ হয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য বড় ক্ষতি। তাই সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, প্রশাসনের উচিত দ্রুত এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। পরিশেষে, দেশের একজন সৎ ব্যবসায়ীর এমন অসহায় বিদায় সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক।



