টেলিভিশন সাংবাদিকতার পরিচিত মুখ মুন্নী সাহাকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। তার ব্যাংক হিসাবের স্থায়ী আমানতে বড় ধরনের গরমিল পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিশেষ করে মুন্নী সাহার অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের প্রমাণ মিলেছে। তাই জ্ঞাত আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের বিষয়ে তাকে আগেই তলব করা হয়েছিল। কারণ, তার আয় ও সম্পদের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। সুতরাং, দুদক এই বিষয়ে অত্যন্ত গভীরভাবে তাদের অনুসন্ধান শুরু করেছে।
১২০ কোটি টাকা উত্তোলন ও সম্পদের হিসাব
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি বড় ঘটনা ঘটে। ওই সময় তার একটি ব্যাংক হিসাব থেকে ১২০ কোটি টাকা তোলা হয়। বর্তমানে সেই অ্যাকাউন্টে মাত্র ১৪ কোটি টাকা স্থিতি আছে। এর মধ্যে ১২ কোটি টাকার কোনো বৈধ উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। তাছাড়া, ১৭টি ভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ লেনদেন হয়েছে। মূলত, গুলশান ও কারওয়ান বাজারের ওয়ান ব্যাংক থেকে টাকাগুলো তোলা হয়। অন্যদিকে, তার স্বামীর নামেও প্রায় ১৬ কোটি টাকার বেশি সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে।
মুন্নী সাহার অ্যাকাউন্ট ও দুদকের পদক্ষেপ
বিধিবহির্ভূত লেনদেনের কারণে তার ব্যাংক হিসাব ইতিমধ্যে জব্দ করেছে বিএফআইইউ। কারওয়ান বাজারে তার স্বামীর প্রতিষ্ঠানের নামে একটি হিসাব রয়েছে। সেখানে নমিনি হিসেবে খোদ মুন্নীর নাম উল্লেখ আছে। আবার, খাতুনগঞ্জে অন্য একটি হিসাবে ১৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। তাই দুদকের কর্মকর্তা ইয়াসির আরাফাত আদালত বরাবর হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করেছেন। কারণ, তিনি অবৈধ অর্থ বিদেশে পাচারের চেষ্টা করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এটি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
জিজ্ঞাসাবাদ, তদবির ও বর্তমান অবস্থা
এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দুদক তাকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু তিনি সম্পদের বিষয়ে কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। এমনকি তিনি নিজের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্রও জমা দেননি। সূত্র জানায়, তদন্ত ঠেকাতে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দুদক তাদের আইনি কার্যক্রম কঠোরভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। পরিশেষে বলা যায়, খুব শিগগিরই এই তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। উল্লেখ্য, তিনি যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নিহতের একটি হত্যা মামলারও আসামি।
এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের খবর প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। দেশবাসী এখন এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন।



