পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএ’র ভাঙা কাঠামো।ছবি: রয়টার্স
পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএ কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল
পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর কার্যালয় ইসরায়েলি বাহিনী গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী বুলডোজারের মাধ্যমে কার্যালয়ের ভিতরে থাকা একাধিক স্থাপনা ধ্বংস করে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে ইউএনআরডব্লিউএ। সংস্থাটির মুখপাত্র জোনাথন ফাওলার বলেন, স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে ইসরায়েলি বাহিনী কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে নিরাপত্তারক্ষীদের বের করে দেয় এবং এরপর বড় বড় ভবনসহ কয়েকটি ছোট স্থাপনা ধ্বংস করতে শুরু করে।
তিনি বলেন, “ইউএনআরডব্লিউএ এবং জাতিসংঘের স্থাপনার ওপর এটি এক নজিরবিহীন হামলা। এটি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং একটি সতর্কবার্তা—আজ যা ঘটছে, আগামীকাল বিশ্বের অন্য কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কূটনৈতিক মিশনের সাথেও ঘটতে পারে।”
ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ইউএনআরডব্লিউএর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে যে সংস্থার কিছু কর্মী ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় জড়িত ছিল, যা গাজায় যুদ্ধের সূত্রপাত হিসেবে পরিচিত। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। গত বছরই ইসরায়েলের নির্দেশে সংস্থাটি তাদের সব স্থাপনা খালি করে কার্যক্রম বন্ধ রাখে।
ফ্রান্সের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাথরিন কোলোনার নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তসহ বিভিন্ন অনুসন্ধানে ইউএনআরডব্লিউএতে কিছু ‘নিরপেক্ষতা–সংক্রান্ত সমস্যা’ পাওয়া গেলেও ইসরায়েলের প্রধান অভিযোগের পক্ষে চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ইউএনআরডব্লিউএর স্থাপনা ধ্বংসের সময় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেনগভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক দিন, উৎসবের দিন এবং জেরুজালেম শাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বছরের পর বছর সন্ত্রাসবাদের সমর্থকরা ছিল; যা কিছু তারা তৈরি করেছে, সব সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে আজ।” তিনি সতর্ক করেছেন, “সন্ত্রাসবাদের সব সমর্থকের সঙ্গে এমনটাই হবে।”
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জেরুজালেমের এই কম্পাউন্ডটি ইসরায়েল রাষ্ট্রের মালিকানাধীন এবং আজকের পদক্ষেপ কোনো নতুন নীতি নয়, বরং বিদ্যমান ইসরায়েলি আইনের বাস্তবায়ন। তাদের দাবি, এটি আন্তর্জাতিক আইন মেনে নেওয়া হয়েছে।
ইউএনআরডব্লিউএ গাজা, পশ্চিম তীরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সহায়তা ও আশ্রয় দিয়ে থাকে।



