পহেলা বৈশাখ আসতে আর খুব বেশি দিন বাকি নেই। তাই, দেশের বাজারে এখন বড় ইলিশের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। শনিবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি মৎস্য বন্দরে রীতিমতো আগুন লেগেছে। সেখানে বিশাল আকৃতির এক ইলিশ রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছে। মূলত, মাছটির ওজন ছিল ১ কেজি ৭৬৫ গ্রাম। আর এই মাছটি সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। ফলে, স্থানীয় বাজারে এই বিশাল মাছটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
এক ইলিশ নিয়ে পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরে কাড়াকাড়ি
পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরের মুন্নি ফিশ আড়তে মাছটি বিক্রির জন্য আনা হয়। সেখানে এই মাছটি দেখার জন্য অসংখ্য মানুষ ভিড় জমান। কারণ, এত বড় ইলিশ এখন সাগরে খুব একটা দেখা যায় না। তাই, স্থানীয় পাইকারদের মধ্যে মাছটি কেনার জন্য রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। মূলত, একটি উন্মুক্ত বা খোলা ডাকে একাধিক ব্যবসায়ী সেখানে অংশ নেন। শেষ পর্যন্ত আলহাজ জাকির হোসেন নামের একজন ব্যবসায়ী মাছটি কিনে নেন। তিনি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে এই বিশাল ইলিশটি ক্রয় করেছেন।
ইলিশের সংকট ও পহেলা বৈশাখের চাহিদা
পাথরঘাটা মৎস্য বন্দরের পরিচিত ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন মাছটি নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান যে, বর্তমানে বাজারে ইলিশের সরবরাহ অত্যন্ত কম। কারণ, সাগরে জেলেদের জালে এখন মাছ ধরা পড়ছে না বললেই চলে। তাই, সকালে বলেশ্বর নদীতে ধরা পড়া মাছটি সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ সামনে রেখে ইলিশের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। একইভাবে, বাজারে ছোট আকারের জাটকা ইলিশের দামও এখন অনেক বেশি। সুতরাং, ক্রেতাদের ইলিশ কিনতে এখন অনেক বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
ঢাকায় এক ইলিশ প্রেরণ ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা
ক্রেতা জাকির হোসেন এই বিশেষ মাছটি কিনে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছেন। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বড় ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই, তিনি খোলা ডাকে সর্বোচ্চ দাম দিয়ে মাছটি কিনেছেন। তিনি এই বিশাল মাছটি ইতোমধ্যে বিক্রির জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছেন। কারণ, ঢাকায় এটি আরও ভালো দামে বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন। অন্যদিকে, পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী মাসে সাগরে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা আসছে।
মৎস্য বন্দরের বর্তমান অবস্থা ও প্রত্যাশা
পাথরঘাটা দেশের অন্যতম বড় একটি মৎস্য বন্দর হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে মাছ কেনাবেচা করতে আসেন। কিন্তু, বর্তমানে ইলিশের আকাল থাকায় অনেক ব্যবসায়ী চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন। তাই, সবাই এখন সাগরে মাছ বাড়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। পরিশেষে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা সঠিকভাবে পালিত হলে মাছের প্রজনন অনেক বৃদ্ধি পাবে। ফলে, আগামীতে জেলেদের জালে এমন বড় আকারের ইলিশ আরও প্রচুর পরিমাণে ধরা পড়বে।



