দিলারা হাফিজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের পরিবারে গভীর শোক নেমে এসেছে। তাঁর প্রিয় সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ মারা গেছেন। শনিবার দুপুরে তিনি চিরকালের জন্য শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মূলত, সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাই, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন গভীর শোকের ছায়া বিরাজ করছে। কারণ, তিনি অত্যন্ত পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় একজন মানুষ ছিলেন।

দিলারা হাফিজ এর উন্নত চিকিৎসা ও মৃত্যু

তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রথমে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু, পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অনেক বেশি অবনতি হয়। তাই, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দ্রুত বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত ঈদুল ফিতরের দিন দুপুরে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। মূলত, একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল। কারণ, চিকিৎসকরা তাঁর সুস্থতার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিলেন।

দিলারা হাফিজ ও শোকসন্তপ্ত পরিবার

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৮ বছর। তিনি দীর্ঘ কর্মময় জীবনে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। সুতরাং, তাঁর এই চিরবিদায় সবার জন্যই অত্যন্ত বেদনার। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। এছাড়া তিনি নাতি-নাতনিসহ আরও অনেক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ফলে, তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো পরিবারে চরম শোক চলছে। অন্যদিকে, শুভাকাঙ্ক্ষীরাও তাঁর আত্মার শান্তির জন্য গভীরভাবে প্রার্থনা করছেন।

মরদেহ দেশে আনয়ন ও জানাজা

জানা গেছে যে, রোববার সন্ধ্যায় তাঁর মরদেহ দেশে এসে পৌঁছাবে। এরপর পরদিন ৩০ মার্চ বেলা ১১টায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মূলত, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এই জানাজার আয়োজন করা হয়েছে। এরপর বাদ জোহর সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মসজিদে তাঁর দ্বিতীয় জানাজা হবে। পরিশেষে, বনানী সামরিক বাহিনীর কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। তাই, সবাই এখন তাঁর শেষ বিদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জাতীয় সংসদে ও সর্বস্তরের শোক

স্পিকারের স্ত্রীর এমন মৃত্যুতে জাতীয় সংসদেও গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। অনেক সংসদ সদস্য ইতিমধ্যে স্পিকারের বাসভবনে ছুটে গেছেন। কারণ, এই কঠিন সময়ে পরিবারকে মানসিক সান্ত্বনা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই, সবাই নিহতের পরিবারের পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তাছাড়া, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন থেকেও আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা পাঠানো হচ্ছে। সুতরাং, জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি সঠিকভাবে নেওয়া হচ্ছে। কারণ, তাঁকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদার সাথে শেষ বিদায় জানানো হবে।