ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণ বা ‘ইনডোর এয়ার পলিউশন’ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে এক আন্তর্জাতিক মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১১ মে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘শিসউক’ (SHISUK) এবং ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (WUACD)-এর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এতে ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান থেকে আগত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (BARD)-এর প্রতিনিধিদল, CEA CAN নেটওয়ার্কভুক্ত ১৪টি সংস্থার প্রতিনিধি এবং স্থানীয় নারীরা অংশগ্রহণ করেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠ, গোবর ও অন্যান্য বায়োমাস জ্বালানির ধোঁয়া গ্রামীণ নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কেবল গৃহস্থালির বায়ুদূষণে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ৩২ লাখেরও বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। কর্মশালায় পাকিস্তানের গবেষক ডা. মুহাম্মদ সাউদ গ্রামীণ পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের রান্নার পরিবেশের গভীর মিল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রান্নার চুলার ধোঁয়ায় যেভাবে ঘরের চাল কালো হয়ে যায়, ঠিক একইভাবে তা প্রতিনিয়ত গ্রহণকারী নারীদের ফুসফুসও স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

দূষণ রোধে পুরনো মাটির চুলার বদলে ধোঁয়ামুক্ত উন্নত ‘বন্ধু চুলা’ ব্যবহার এবং রান্নাঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ওপর জোর দেন WUACD-এর স্বাস্থ্য কর্মসূচির প্রধান অধ্যাপক ডা. আজিজ রহমান। সমাপনীতে বার্ড-এর পরিচালক ফৌজিয়া নাসরিন সুলতানা এই নীরব ঘাতক সম্পর্কে দেশব্যাপী সচেতনতা

বৃদ্ধিতে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন।