বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান    ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ইশতেহারে দলটি ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছে।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ইশতেহারে ঘোষিত বিএনপির ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি হলো—

১. প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পর্যায়ক্রমে এই সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হবে।

২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষিবিমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। পাশাপাশি মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষিখাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এ সুবিধার আওতায় আসবেন।

৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।

৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা প্রদান এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে।

৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে। পাশাপাশি পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।

বিএনপি বলছে, এই ইশতেহার কেবল একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিপত্র নয়; এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। দলটি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই বিএনপির রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু।

ইশতেহারে আরও বলা হয়, লুটপাট নয় উৎপাদন, ভয় নয় অধিকার, বৈষম্য নয় ন্যায্যতার ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে এবং আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না। প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবেন—সবার আগে বাংলাদেশ।