ছবিঃ প্রথম আলো

ভোলায় পৌঁছেই প্রচারে নামলেন বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজের নির্বাচনী এলাকা ভোলা-১ (সদর) আসনে ফিরেছেন প্রার্থী ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ। তাঁর আগমনকে ঘিরে এলাকায় দিনভর ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায়। এ সময় গরুর গাড়ি প্রতীকের প্রচারণায় নতুন গতি সঞ্চার হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে স্পিডবোটে ভোলার খেয়াঘাটে পৌঁছান আন্দালিভ রহমান। সকাল ১০টা থেকেই জাঙ্গালিয়া নদীর তীরে তাঁকে একনজর দেখার জন্য জড়ো হতে থাকেন হাজারো মানুষ। দুপুর ১২টার দিকে কয়েকটি স্পিডবোটসহ তিনি খেয়াঘাটে পৌঁছালে জনতার ঢল নামে। ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন তিনি। দুহাত নেড়ে জনতার শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন বিজেপির এই চেয়ারম্যান। এ সময় খেয়াঘাট এলাকা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।

এরপর প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে জনতার সঙ্গে হেঁটে খেয়াঘাট থেকে ভোলা শহরের নতুনবাজার চত্বরে অবস্থিত বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছান আন্দালিভ রহমান। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন তিনি।

বক্তব্যে আন্দালিভ রহমান বলেন, “আল্লাহ তাআলা আমাকে আবার আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন—এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আজ টানা তিন ঘণ্টা আপনারা আমার পাশে হেঁটে এসেছেন, এ ভালোবাসা আমি কোনো দিন ভুলব না।”

২০০৮ সালের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, বাবার মৃত্যুর পর তাঁর জীবন ছিল পালবিহীন নৌকার মতো। সে সময় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে সান্ত্বনা ও আস্থা দিয়েছিলেন এবং ভোলা-১ আসনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ভোলার জনগণ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সহযোগিতায় তিনি সংসদে যেতে পেরেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।

মানবিক ভোলা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আন্দালিভ রহমান বলেন, “আমরা কোনো মারামারি করব না, কোনো প্রতিশোধ নেব না। সবাইকে নিয়ে শান্তির ও মানবিক ভোলা গড়তে চাই। ভোলায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, লুটপাট কিংবা সালিসের নামে টাকা আদায়ের রাজনীতি থাকবে না। আমি ভোলাকে সিঙ্গাপুর বানাতে পারব না, তবে আমার কোনো আত্মীয়স্বজন টেন্ডারবাজি করবে না—এটা নিশ্চিত করতে পারব।”

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে ভোট দিন। “যদি আমার চেয়ে যোগ্য কেউ থাকে, আমাকে বলেন—আমি তাকেই ভোট দেব। আর যদি মনে করেন ভোলা-বরিশাল সেতু বা মেডিকেল কলেজ আনতে পারবে আন্দালিভ রহমান পার্থ, তাহলে দলমত নির্বিশেষে গরুর গাড়ি প্রতীকে ভোট দিন,”—বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, ভোলা-১ (সদর) আসনে মনোনয়নপত্র তুলেছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর। পরে আসনটি বিএনপি বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে ছেড়ে দেওয়ায় তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

এ প্রসঙ্গে আন্দালিভ রহমান বলেন, “রাগ আর জেদ দিয়ে ভালো কিছু করা যায় না। বিএনপি ও বিজেপি ভাই ভাই—ঐক্য ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। আজ থেকে ভোলার মুরব্বি গোলাম নবী আলমগীর। সবাইকে বুকে টেনে নিয়ে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ঢাকার মানুষ আমাকে পছন্দ করে, কিন্তু ভোলার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। ভালোবাসা আর পছন্দ এক নয়। ভোলা আমার বাপের বাড়ি, আর আমার মার্কা গরুর গাড়ি।”

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি যত দিন ভোলায় আছি, কেউ আইন নিজের হাতে নেবেন না। জামায়াত হোক বা ইসলামী আন্দোলন—কোনো মারামারি বা সংঘর্ষ নয়। আল্লাহ যদি আমাকে সংসদ সদস্য বানান, কেউ ঠেকাতে পারবে না, ইনশা আল্লাহ।”

পরে উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে গিয়ে তাঁর বাবা, বিজেপির সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী নাজিউর রহমান মঞ্জুরের কবর জিয়ারত করেন আন্দালিভ রহমান। এরপর তিনি ভোলা শহরের উকিলপাড়ায় নিজ বাড়িতে যান।